শরীয়তপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ও পরিচিত মুখ হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদ। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে যুবদল, কৃষক দল এবং বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ রাজনৈতিক জীবন। রাজনীতিকে তিনি শুধু ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং মানুষের সেবা, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ উন্নয়নের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিশ্বাস করেন।
দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ।
হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি রাজনীতিকে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম হিসেবে দেখিনি। মানুষের ভালোবাসা, আস্থা এবং দোয়া অর্জন করাই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমি সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যেতে চাই।”
ছাত্ররাজনীতি থেকেই নেতৃত্বের পথচলা
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে তিনি শরীয়তপুর সদর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তরুণদের সংগঠিত করা, শিক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
পরবর্তীতে তিনি সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং যুবসমাজকে সংগঠিত করে দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল করতে কাজ করেন। এরপর শরীয়তপুর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনায় অবদান রাখেন।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সক্রিয় ভূমিকা
রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো কৃষক ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তাঁর সম্পৃক্ততা। তিনি কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যা, উৎপাদন ব্যয়, ন্যায্যমূল্য ও কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক নানা কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তিনি সবসময় গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে দলীয় ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন
জনপ্রতিনিধি হিসেবেও হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর দায়িত্বকালে স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান। সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধান এবং সহজ যোগাযোগের কারণে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে একজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সফল নেতৃত্ব
দলীয় রাজনীতিতে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক এবং কৃষিবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর জেলা কৃষক দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অতীতে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে তিনি স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ভবিষ্যতেও দলীয় কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মানুষের পাশে থাকাই রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য
হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদ মনে করেন, একজন রাজনীতিকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো। তিনি বলেন, “রাজনীতি যদি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে না পারে, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি মানুষের সমস্যার কথা শুনতে এবং সাধ্যমতো সমাধানের উদ্যোগ নিতে।”
তিনি আরও বলেন, “আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মানুষের ভালোবাসা। আমি চাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রাজনীতিকে সংঘাতের নয়, সেবা ও উন্নয়নের একটি ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখুক।”
তরুণদের উদ্দেশে বার্তা
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দেশ ও সমাজের উন্নয়নে তরুণদের দায়িত্বশীল হতে হবে। সততা, নৈতিকতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ছাড়া একজন ভালো রাজনৈতিক কর্মী হওয়া সম্ভব নয়। রাজনীতিতে আদর্শ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।”
তিনি মনে করেন, শিক্ষিত ও যোগ্য তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
জনকল্যাণই চূড়ান্ত লক্ষ্য
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস করেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, “আমি চাই শরীয়তপুরের প্রতিটি মানুষ উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সমান সুযোগের সুবিধা পাক। দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেও মানুষের পাশে থাকতে চাই। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াই আমার অঙ্গীকার।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে হাজী বি. এম. হারুন অর রশিদ শরীয়তপুরের রাজনীতিতে একজন অভিজ্ঞ, গ্রহণযোগ্য ও আস্থাভাজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।