২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন লেবু ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, শ্রীপুর।
বুধবার (১ জুলাই) শ্রীপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু) এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া আক্তার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস. এম. রফিকুল ইসলাম (বাচ্চু) এমপি বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উন্নতমানের বীজ, সার ও আধুনিক প্রযুক্তি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, কৃষকের ভাগ্যের উন্নয়ন ছাড়া দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই কৃষকদের কল্যাণে সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, কৃষকদের জন্য সরকারের প্রতিটি সহায়তা যেন সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিকাজে আরও বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নতমানের বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। প্রতিটি কৃষককে ৫ কেজি উন্নতমানের বীজ এবং ২০ কেজি সার প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।