ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা বিমানবন্দর ফুটওভার ব্রিজের নিচে মানবতার এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অযত্ন ও চিকিৎসাহীনতায় এক অসহায় নারীর মাথার ক্ষতস্থানে বাসা বেঁধেছে শত শত পোকা। জীবন্ত মানুষের শরীর পোকায় খেয়ে ফেলছে—এমন মর্মান্তিক খবর পৌঁছায় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছে।শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র ফটোগ্রাফার মো. খালেদ ইবনে এম এ রব কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোন করে সংসদ সদস্যকে জানান, বিমানবন্দর ফুটওভার ব্রিজের নিচে এক নারী ভয়াবহ অবস্থায় পড়ে আছেন। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো দুর্ঘটনায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। কিন্তু চিকিৎসার অভাবে ক্ষতস্থানে ভয়াবহ সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে অসংখ্য পোকা জন্ম নেয়।খবর পাওয়া মাত্রই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তাঁর সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানাও সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেনকে ফোন করে অসুস্থ নারীকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশনা দেন।পরে ওই নারীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংসদ সদস্য ও তাঁর সহধর্মিণীর আগমনের খবর পেয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান নিজেও হাসপাতালে ছুটে আসেন। এ ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আমানও।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় দৃশ্য। দীর্ঘদিনের অবহেলায় নারীর মাথার ক্ষতস্থানে শত শত পোকা বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসক ও নার্সরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় তাঁকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।এ সময় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন,“এই অসহায় নারীর চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, আমি সব ধরনের সহযোগিতা করব। একজন মানুষকে এভাবে কষ্ট পেতে দেওয়া যায় না।”কুর্মিটোলা হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান বলেন,“এ ধরনের বাস্তুহারা ও স্বজনহীন রোগীর চিকিৎসা আমরা আগেও করেছি। কিন্তু চিকিৎসা শেষে তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”তখন মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সংসদ সদস্যের সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানা ঘোষণা দেন,“চিকিৎসা শেষে এই নারীর পুনর্বাসনের দায়িত্ব আমি নিজেই নেব।”সমাজের প্রান্তিক, গৃহহীন ও স্বজনহীন মানুষেরা প্রতিনিয়ত নীরবে অসহায় জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেরই খবর আমরা জানি না, জানার চেষ্টাও করি না। অথচ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে তাদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব থেকে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাঁর সহধর্মিণী রাজিয়া সুলতানার এই মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব শুধু উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেই নয়, মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেও প্রতিফলিত হয়।