1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে র‍্যাব-৬ এর কাছে ৪ বাহিনীর ৫২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের নকশা অনুমোদন, এরপরও প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ারে খালেকুজ্জামান-দ্বিতীয় পর্ব গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু নাসের চৌধুরীকে ঘিরে ৩৫ e-GP টেন্ডারে প্রশ্ন গণপূর্তে সরকারি অর্থ ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ,তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেনকে ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন মহেশখালীতে চেকপোস্টে ৮ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারঃ আটক-২ টঙ্গীতে শান্তা জুয়েলার্সের মালিক কাস্টমারের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ,থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাইবান্ধায় আনন্দ র‍্যালি ও সমাবেশ শ্রীপুরের মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পুরাতন খলনায়ক নতুন করে আবির্ভাব। কুড়িগ্রামে পালিত হলো বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ডিবির বিশেষ অভিযান: ইয়াবা-গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৭, 

যে বিনয়ের সাথে কথা বলে সে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী

মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার:
  • Update Time : Saturday, March 14, 2026,
  • 93 Time View
যে আচরণ বা গুণে মানুষকে সত্যিকার অর্থে বড় বা মহান করে তোলে সেটা হচ্ছে সম্মান করা, ভদ্রভাবে কথা বলা বা বিনয়ের সাথে কথা বলা। যা এখন খোঁজে পাওয়া যায় না। অনেকে অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে চুপ থেকে বিনয়ের সাথে কথা বলাকে দুর্বলতা ভেবে নেয়। বিনয় মানে নম্রতা। বিনয়ী হওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। এটা অর্জন করতে হয়। তার জন্য নিজের মধ্যে মৈত্রী, মুদিতা, করুণা, উপেক্ষা, সংযম, ধর্য্যশীল, শান্ত হতে হয়। আত্মাকে জয় করতে হয়। অহংকার ত্যাগ করতে হয়। এতে করে একজন মানুষের সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। যে বিনয়ের সাথে কথা বলে সে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। তার মাঝে প্রজ্ঞা আছে, শিক্ষণীয় থাকে, কথার মাঝে অন্যের হৃদয়কে স্পর্শ করে। নিজের ভিতরে থাকা হিংসা অহংকারকে কোমল করে। বর্তমান সমাজে এখন সব চেয়ে দুর্লভ জিনিস হচ্ছে ভদ্রতা বিনয়ী হওয়া। যা এখন দেখা যায় না। এটা একটি অদৃশ্য সৌন্দর্য ও শক্তি। যে শক্তিতে ব্যক্তি জীবন, সমাজ, দেশ এগিয়ে যেতে সহায়ক হয়। বিনয়ীদের কথার মধ্যে শালীনতা থাকে। দেহের বাহ্যিক সৌন্দর্য আচরণের মাধ্যমে ফোটে উঠে মানুষের সুন্দর চেহারা, অর্থ বা পোষাকে নয়। আচার আচরণ সংযম না হলে কখনই সুশিক্ষিত গণ্য হয় না। মানুষ যতই বড় বা বিত্তশালী হোক না কেন। বিনয় ব্যবহার না থাকলে সে ছোট,বিনয় একটি মহৎ গুণ, যা মানুষের হৃদয়কে কোমল ও সৎ রাখে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি এমন একটি গুণ, যা আল্লাহর পথে চলার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।এই গুণের মাধ্যমে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সমাজের সামগ্রিক কল্যাণও নিশ্চিত হয়। বিনয় বলতে বুঝায় মানুষের মধ্যে নম্রতা, সহমর্মিতা ও দীনতার গুণাবলি থাকা। এটি মানুষের চরিত্রের একটি দিক, যা তাকে অহংকার ও গর্ব থেকে দূরে রাখে। বিনয় মানুষকে আল্লাহর দাসত্বের প্রকৃত রূপ উপলব্ধি করতে সহায়তা করে। বিনয়ী মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়।
কুরআনে বিনয়ের গুরুত্ব
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বিনয়ের গুণাবলি নিয়ে বহু আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। তিনি বলেন,
“রহমানের বান্দারা তারা, যারা পৃথিবীতে বিনয়ীভাবে চলাফেরা করে এবং অজ্ঞরা তাদের সাথে বিবাদ করতে চাইলে বলে, ‘আপনার ওপর শান্তি।’” (সূরা ফুরকান: ৬৩)।
“তোমরা পৃথিবীতে অহংকার করে চলাফেরা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী ও আত্মগর্বিত ব্যক্তিকে পছন্দ করেন না।” (সূরা লুকমান: ১৮)।
এই আয়াত স্পষ্টভাবে বলে দেয় যে অহংকার ও আত্মগরিমা আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয়, এবং বিনয় এই দুটির বিপরীত একটি গুণ।
হাদিসে বিনয়ের গুরুত্ব রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জীবনে বিনয়ের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন,“যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উন্নত মর্যাদা দান করেন।” (সহীহ মুসলিম)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে বিনয় মানুষের জন্য কেবল একটি নৈতিক গুণ নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি মাধ্যম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন,
“আল্লাহ আমাকে ওহি করেছেন যে তোমরা যেন একে অপরের প্রতি বিনয়ী থাকো, কেউ যেন অন্য কারও প্রতি অহংকার না করে এবং কেউ যেন অন্যকে অবজ্ঞা না করে।” (সহীহ মুসলিম)।
এই হাদিস আমাদের শেখায় যে বিনয়ী আচরণ কেবল ব্যক্তিগত নয়, এটি সামাজিক সম্পর্কেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন বিনয়ের এক অনন্য উদাহরণ। তিনি ছিলেন সর্বোত্তম নবী, তবুও অত্যন্ত বিনয়ী ছিলেন। একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সামনে আসলে ভয়ে কাঁপতে থাকেন। তখন তিনি বললেন,“ভয় পেয়ো না, আমি তো সেই ব্যক্তি, যার মা শুকনো রুটি খেতেন।” (ইবনে মাজাহ)।
এটি তার বিনয়ের অসাধারণ দৃষ্টান্ত। তিনি কখনো নিজের মর্যাদা বড় করে দেখাতেন না এবং সর্বদা সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করতেন।
আরেকবার এক দাসী রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন যে তার কোনো কাজের জন্য সাহায্য দরকার। তিনি বিনা দ্বিধায় তার সাথে গেলেন এবং তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সাহায্য করলেন। বিনয় মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা তৈরি করে। একজন বিনয়ী ব্যক্তি তার কাজ, কথা এবং আচরণে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না।” (সূরা নিসা: ৩৬)।
অতএব, বিনয়ী হওয়া মানে আল্লাহর সেই গুণ অর্জন করা, যা তাঁকে খুশি করে। বিনয় মানুষকে অন্যদের প্রতি সদয় এবং সহনশীল হতে উৎসাহিত করে, যা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয়।আল্লাহর নৈকট্য লাভ:বিনয় মানুষকে অহংকার ও আত্মপ্রশংসা থেকে মুক্ত রাখে, যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি শর্ত।মানবিক সম্পর্কের উন্নতি:বিনয়ী আচরণ মানুষকে অন্যদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।অন্তরের প্রশান্তি:বিনয় মানুষকে অহংকার এবং মানসিক চাপ থেকে মুক্ত রাখে। এটি হৃদয়ে প্রশান্তি আনে।সমাজে সম্মান:বিনয় মানুষকে সমাজে সম্মানিত করে এবং অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
নিজের দুর্বলতা এবং সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা।আল্লাহর স্মরণ:নিয়মিত আল্লাহর জিকির ও ইবাদত করা, যা অহংকার দূর করে। অহংকার পরিত্যাগ:নিজের অর্জন ও ক্ষমতার জন্য গর্বিত না হওয়া।সহানুভূতিশীল হওয়া:অন্যদের কষ্ট ও সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল থাকা।
বিনয় এমন একটি গুণ, যা ব্যক্তির চরিত্রকে পরিশীলিত করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে সহায়ক হয়। কুরআন ও হাদিসে বিনয়ের গুরুত্বের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিনয়ী হওয়া মানে আল্লাহর প্রতি দাসত্ব প্রকাশ করা এবং তাঁর সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বিনয়ী হওয়ার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের জীবনে এই মহৎ গুণ প্রতিষ্ঠা করার ক্ষমতা দান করুন। আমিন।্
লেখক:চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী।
Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ