গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়নে অনিয়ম, সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।
একই সময়ে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফোন করার পর প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মো. এমরান হোসেন। এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর মতিঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
দুদকে তদন্তের আবেদন
দুদকে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে আবেদনকারী মো. মানিক মিয়া বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলি ও পদায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বরখাস্ত প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে ব্যাকডেটে বদলি দেখিয়ে পুনর্বহালের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া একাধিক উচ্চমূল্যের সরকারি দরপত্র পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অনিয়ম কিংবা অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগপত্রে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজস্ব বলয়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ বা পদায়নের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
দুদকে দেওয়া আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানানো হয়েছে।
সাংবাদিকের হুমকির অভিযোগ
এদিকে, এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গিয়ে হুমকির শিকার হওয়ার দাবি করেছেন দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মো. এমরান হোসেন।
মতিঝিল থানায় করা জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২০ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক সাতটার দিকে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন।
জিডিতে সাংবাদিক অভিযোগ করেন, ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং তাঁকে ‘দেখে নেওয়া হবে’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার আবেদন জানান ওই সাংবাদিক।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগগুলোর বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়কে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, দরপত্রে অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য বের করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
দুদকে করা তদন্তের আবেদন এবং মতিঝিল থানায় করা জিডি—দুটি বিষয়েই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে। তদন্তের পর অভিযোগগুলোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের পথ নির্ধারণ করবে।