কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও দেবিদ্বার উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সালাহ উদ্দিন রুহুলের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের অবৈধভাবে জন্মনিবন্ধন সনদ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিটি অবৈধ জন্মনিবন্ধনের বিপরীতে প্রায় তিন লাখ টাকা করে লেনদেন হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে ১৮ থেকে ২০টি সন্দেহজনক জন্মনিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেলেও সম্প্রতি আরও প্রায় ২০টি জন্মনিবন্ধনের তথ্য তাদের হাতে এসেছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অধিকাংশ জন্মনিবন্ধন ২০২৫ সালের ৪ ও ৫ জানুয়ারি নিবন্ধিত হয়েছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এসব জন্মনিবন্ধনে উল্লেখিত ঠিকানার বেশির ভাগই কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলার বিভিন্ন এলাকার। তাদের দাবি, বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করলে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অর্থের বিনিময়ে এসব জন্মনিবন্ধন সনদ পাইয়ে দিয়েছে বলে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তারা আরও দাবি করেন, কয়েকটি সনদে ইস্যুর তারিখ হিসেবে “০০০১” সাল উল্লেখ রয়েছে, যা অস্বাভাবিক। কারণ, দেশে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে ২০০৭ সালে শুরু হয়। তবে এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সালাহ উদ্দিন রুহুলের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। তাদের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে তিনি গ্রামের বাড়িতে একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেছেন এবং আড়ম্বরপূর্ণ জীবনযাপন করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে নিজের পদ বহাল রাখার উদ্দেশ্যে অভিযুক্ত জন্মনিবন্ধনের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে এই অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য দেবিদ্বার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল উদ্দিনের কাছে পাঠানো হয়েছে।”
তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার তিনি সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের বক্তব্য গ্রহণ করেছেন।
প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন রুহুলের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও বিস্তৃত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবী।