গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন আউচপাড়া এলাকায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদা দাবি, হামলা, মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মো. লিটন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগটি করেছেন ইতি আক্তার (২৮), স্বামী মো. আরিফ। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৬ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে অভিযুক্ত মো. লিটন সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে তাদের চলাচলের রাস্তার বালুর বস্তা সরিয়ে দেন এবং ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন, মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন ২৭ জুলাই ২০২৬ বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মো. লিটন ১০-১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় ইতি আক্তার, তার শাশুড়ি মোছা. আম্বিয়া (৬৫) এবং স্থানীয় কয়েকজন নারী প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত আম্বিয়াকে পেটে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লাথির আঘাতে আম্বিয়া অজ্ঞান হয়ে গেলে তাকে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় আরও ৪-৫ জন নারী প্রতিবেশী মারধরের শিকার হয়ে আহত হন এবং তারাও হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিলেও পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা প্রদর্শন করতে অস্বীকৃতি জানান। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জের কাছে আবেদন করেছেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মো. লিটনকে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ কর্মী এবং ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে কৌশল পরিবর্তন করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া আদালত সূত্রে জানা যায়, মো. লিটন মিয়া (৫২), পিতা: মৃত আশরাফ আলী, সাং- বড় দেওড়া, হাজী সালামত উল্লাহ মাস্টার রোড, টঙ্গী পশ্চিম, গাজীপুরের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারির মামলা রয়েছে। শিউলি আক্তার বাদী হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলা (মামলা নং-৪) দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ মো. লিটনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। প্রায় ছয় মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্তি পান।
পরবর্তীতে মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই অভিযোগপত্র নং-১৪৩, তারিখ ৫ জুলাই ২০২১ অনুযায়ী দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে গাজীপুরের বিচারিক আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পক্ষ থেকে অভিযোগের তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।