ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বড় বাজার এলাকার নাজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নুরুল ইসলামের ছেলে কানুনগো মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুদকের একটি সূত্রের দাবি, সরকারি চাকরিজীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিক জেলায় কর্মরত অবস্থায় মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, চাকরির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি ও তার ঘনিষ্ঠ স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী, পাহাড়তলী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকাসহ ঢাকা, ফেনী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও বান্দরবানে তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ফ্ল্যাট, জমি, বহুতল ভবন এবং উল্লেখযোগ্য ব্যাংক আমানতের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খুলশী থানার পূর্ব নাসিরাবাদ মৌজার জাকির হোসেন রোডে কয়েকটি ফ্ল্যাট প্রথমে শ্বশুরের নামে ক্রয় করে পরে পরিবারের সদস্যদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়তলী ও বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় জমি ও বহুতল ভবনের মালিকানার বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।
দুদকের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিজানুর রহমানের আয়কর নথিতে সম্পদের তথ্য নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুসন্ধানে সম্পদের উৎস, আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের বিষয়ও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, তার স্ত্রী ও অন্যান্য স্বজনদের নামেও বিভিন্ন সম্পদ এবং ব্যাংক হিসাব রয়েছে, যেগুলোর উৎস তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
দুদকের একটি সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।