আজ ২১ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস (Father’s Day)। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হয়। সন্তানের প্রতি বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ, দায়িত্ববোধ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাতেই এ দিবসের আয়োজন।
পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষের জীবনেই বাবা এক বিশাল বটবৃক্ষের মতো আশ্রয়। তিনি হয়তো মায়ের মতো সব অনুভূতি প্রকাশ করেন না, বারবার ভালোবাসার কথা বলেন না কিন্তু সন্তানের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে নীরবে সংগ্রাম করে যান সারাজীবন।
একজন বাবা শুধু পরিবারের উপার্জনকারী নন তিনি সন্তানের প্রথম শিক্ষক, প্রথম নায়ক, সাহসের উৎস, নির্ভরতার প্রতীক এবং আজীবনের নিরাপদ আশ্রয়। নিজের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে সন্তানের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
বাবা দিবসের ইতিহাস:
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা হয় যুক্তরাষ্ট্রে। এ দিবস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সোনোরা স্মার্ট ডড (Sonora Smart Dodd) নামের এক নারী। ১৯০৯ সালে ওয়াশিংটনের একটি গির্জায় মা দিবস পালনের আয়োজন দেখে তার মনে প্রশ্ন জাগে মায়ের জন্য বিশেষ দিন থাকলে বাবার জন্য কেন থাকবে না?
মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা একাই সাত সন্তানকে লালন-পালন করেছিলেন। বাবার সেই ত্যাগ, পরিশ্রম ও ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি বাবা দিবস পালনের উদ্যোগ নেন।
তার প্রচেষ্টার ফল হিসেবে ১৯১০ সালের ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে এটি ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বাবা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বিভিন্ন সময়ে বাবা দিবস পালিত হলেও অধিকাংশ দেশেই জুন মাসের তৃতীয় রবিবার দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
বাবারা ভালোবাসেন ভিন্নভাবে:
অনেক সময় বাবার ভালোবাসা সরাসরি চোখে পড়ে না। কারণ তিনি আবেগের চেয়ে দায়িত্বকে বেশি গুরুত্ব দেন। সংসারের ব্যয়ভার, সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সবকিছুর দায়িত্ব নীরবে বহন করেন তিনি।
সন্তান যখন নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকে, তখনও একজন বাবা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন। নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সন্তানের স্বপ্ন পূরণে পথ তৈরি করেন। তাই বাবার ভালোবাসাকে অনেকেই বিশাল বটগাছের সঙ্গে তুলনা করেন যার ছায়া সর্বদা অনুভব করা যায়, কিন্তু যার শিকড়ের গভীরতা সহজে বোঝা যায় না।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক বিশেষ উপলক্ষ:
ব্যস্ত জীবনের নানা ব্যস্ততায় আমরা অনেক সময় বাবার প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলে যাই। অথচ একটি ছোট্ট ‘ধন্যবাদ’, একটি ফোনকল, কিছু সময় একসঙ্গে কাটানো কিংবা আন্তরিক কিছু কথা একজন বাবার মুখে এনে দিতে পারে তৃপ্তির হাসি।
বাবা দিবস শুধু উপহার দেওয়ার দিন নয় এটি পারিবারিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার, সম্পর্কের উষ্ণতা ফিরিয়ে আনার এবং বাবার অবদানের প্রতি সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আসলে বাবা কোনো সাধারণ সম্পর্কের নাম নয়। তিনি একজন সন্তানের জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি, নির্ভরতা ও প্রেরণার উৎস।
বিশ্ব বাবা দিবসে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা।