শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন
৪১(একচল্লিশ) টি মামলার পাহাড় মাথায় নিয়ে ঝিনাইদহ ৩(তিন) আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বর্তমানে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন ঝিনাইদহের মো: মতিয়ার রহমান। আইনি জটিলতা ও নানা বিতর্কের আবর্তে থাকলেও তার নির্বাচনী এলাকায় সমর্থকদের কাছে তিনি এক ‘ব্যতিক্রমী ও বহুমাত্রিক’ নেতৃত্বের নাম। সমর্থকদের দাবি, কেবল রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং অগাধ পাণ্ডিত্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক বিরল উদাহরণ তিনি।
স্থানীয় অনুসারীদের দাবি, মতিয়ার রহমান শুধু একজন রাজনীতিবিদই নন, বরং একজন প্রাজ্ঞ গবেষক। তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পবিত্র কোরআনের তাফসির পেশ করতে সক্ষম। তবে তার জ্ঞানের পরিধি কেবল ইসলাম ধর্মেই সীমাবদ্ধ নয়; হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ ও শ্রীমদ্ভাগবত গীতা, বৌদ্ধদের ত্রিপিটক, খ্রিস্টানদের বাইবেল এমনকি পারসিকদের জেন্দাবেস্তা সম্পর্কেও তার গভীর অধ্যয়ন রয়েছে বলে জানা যায়।
কোরআন ও বিজ্ঞানের মধ্যে সামঞ্জস্য নিয়ে তার গবেষণা স্থানীয় পর্যায়ে তাকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ধর্মীয় ও দার্শনিক জ্ঞানের পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও রয়েছে তার পদচারণা। ২০২২(দুই হাজার বাইশ) সালে নজরুল একাডেমির আমন্ত্রণে দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্বদের সাথে কলকাতা সফরের বিষয়টি তার সাহিত্যিক গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ দেয়।
কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর এলাকার সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন, তারা একজন যোগ্য ও শিক্ষিত নেতা পেয়েছেন। তবে বাস্তবতাকে সামনে রেখে তারা বলছেন, একটি বিশাল অঞ্চলের উন্নয়ন এককভাবে কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এলাকার অবকাঠামো ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য সংসদ সদস্যের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা ও ঐক্যের ওপর তারা জোর দিচ্ছেন।
মতিয়ার রহমানকে নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করেন, মানুষ হিসেবে প্রত্যেকেরই দোষ-গুণ থাকে। সমর্থকদের মতে, ঢালাওভাবে গণমাধ্যমে সমালোচনা না করে যেকোনো ভুলত্রুটি বা মতবিরোধ সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। নেতৃত্বের প্রতি গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখলে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। আইনি জটিলতা ছাপিয়ে শেষ পর্যন্ত মতিয়ার রহমান তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও অর্জিত জ্ঞান দিয়ে জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।