
পরিশ্রম, সততা ও মানুষের প্রতি আন্তরিক আচরণ—এই তিনটি গুণকে পুঁজি করে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী মোঃ লিটন মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার ৬ নম্বর নাউতারা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আনিছুর রহমানের ছেলে। পারিবারিকভাবেই দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের পরিবার।
একসময় নাউতারা হাটের ছোট্ট একটি চৌকিতে বসে সীমিত পরিসরে মাছ বিক্রি করতেন লিটন মিয়া। স্বল্প পুঁজি, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও সততাকে সঙ্গী করে ধীরে ধীরে তিনি গড়ে তুলেছেন সফল একটি মাছের আড়ত। বর্তমানে ডিমলা, হাতীবান্ধাসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারিভাবে মাছ সরবরাহ করে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুটি পিকআপ ভ্যান রয়েছে এবং প্রতিদিন প্রায় ২০ জন মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। এছাড়াও ছোট-বড় অসংখ্য মাছ ব্যবসায়ী তার আড়ত থেকে মাছ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ফলে তিনি শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেননি, এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে মাছ ব্যবসায়ী জিয়ারুল ইসলাম, শওকত আলী, রায়হান কবির, মাসুম, তৌফিক ও মজতুল্লাহসহ স্থানীয় অনেকে বলেন,
“লিটন মিয়া অত্যন্ত অমায়িক ও বন্ধুসুলভ মানুষ। ছোট একটি দোকান থেকে আজ তিনি বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন। তার সফলতার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম, সততা ও আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস। তিনি সবসময় বলেন, আল্লাহ চাইলে মানুষকে সম্মানিত করেন, আবার পরীক্ষা নিতেও পারেন।”
স্থানীয়দের মতে, লিটন মিয়ার সফলতার গল্প বর্তমান তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সততা ও পরিশ্রম থাকলে ছোট পরিসর থেকেও বড় স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব—তার জীবনই তার প্রমাণ।
এ বিষয়ে লিটন মিয়া বলেন,
“আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন, আর সুদকে হারাম করেছেন। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও ব্যবসা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি, ব্যবসায় সবার আগে নিয়তের বিশুদ্ধতা থাকতে হবে। মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না। সততা, বিশ্বাস ও ভালো ব্যবহারই ব্যবসার সবচেয়ে বড় মূলধন।”