বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন বলুহর ইউনিয়নের ফুলবাড়ি গ্রামের দরিদ্র ইন্তাজুল। একদিকে অর্থ নেই, তাই বন্ধ চিকিৎসা; অন্যদিকে ঘরে খাবার নেই—স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ঘোর অন্ধকারে ডুবে ছিল পরিবারটি। তবে শেষ পর্যন্ত দেশ ও বিদেশের হৃদয়বান মানুষের উদ্যোগ আর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে কাটতে শুরু করেছে সেই আঁধার। আলমসাধু থেকে পড়ে গুরুতর আহত ইন্তাজুলের পাশে দাঁড়িয়েছে একঝাঁক মানবিক মানুষ।
যেভাবে শুরু হলো এই মানবিক সংগ্রাম ইন্তাজুলের পা ভেঙে যাওয়ার পর টাকার অভাবে যখন চিকিৎসা থমকে যায়, তখন বিষয়টি স্থানীয় সচেতন মহলের নজরে আসে। বিশেষ করে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং সাংবাদিক রফিক মন্ডল ইন্তাজুলের এই করুণ অবস্থা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। তাদের এই নিরলস প্রচার ও জোরালো আহ্বান দ্রুত মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। মূলত তাদের মেধা ও লেখনীর মাধ্যমে বিষয়টি দেশ-বিদেশের মানুষের নজরে আসে।
মানবিকতায় যুক্ত হলেন লন্ডনের প্রবাসীরা ইন্তাজুলের এই অসহায়ত্বের খবর শুনে সুদূর লন্ডন থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কোটচাঁদপুরের দুই কৃতি সন্তান। কোটচাঁদপুর কামিল স্নাতকোত্তর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও সর্বজনীন শ্রদ্ধাভাজন অধ্যক্ষ মরহুম সামছুর হক (রহঃ)-এর সুযোগ্য সন্তান, বিশিষ্ট দানবীর ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান আসাদ এবং কোটচাঁদপুর সোলেমানপুর মুন্সী পাড়ার কৃতি সন্তান, দানশীল ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মুন্সী আবদুল্লাহ আল মামুন। এই দুই প্রবাসী ভাই যৌথভাবে ইন্তাজুলের চিকিৎসার জন্য ১০(দশ) হাজার টাকা প্রদান করেছেন। তাদের এই বিনম্র দান ও ভ্রাতৃত্ববোধ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলেন যারা সাংবাদিকদের এই মানবিক আহ্বানে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান এবং কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এনামুল হাসান। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইন্তাজুলের চিকিৎসার জন্য মোট ৬০( ষাট্ট) হাজার টাকা সংগ্রহ করা হয়।
সরাসরি পাশে প্রশাসন শুক্রবার দুপুর আড়াইটার সময় ইন্তাজুলের বাড়িতে উপস্থিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান। তিনি নিজ হাতে সংগৃহীত এই অর্থ ইন্তাজুলের পরিবারের কাছে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন এই উদ্যোগের অন্যতম রূপকার সাংবাদিক রফিক মন্ডল, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী মো. জাহাঙ্গীর আলম, মোস্তাফিজুর রহমান আপেল এবং মামুন হোসেন।
কৃতজ্ঞতায় সিক্ত পরিবার অসহায় ইন্তাজুলের পরিবার ও স্থানীয়রা বিশেষ করে ব্যারিস্টার আসাদ ও ব্যারিস্টার মুন্সী মামুনের প্রতি বিনম্র ধন্যবাদ ও চির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সাংবাদিকরা যদি তাদের লেখনী দিয়ে সমাজের অসহায়দের কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসীরা ও প্রশাসন যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তবে কোনো মানুষকেই বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে হবে না।