নিজস্ব প্রতিবেদক :
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ‘মায়ের দোয়া’ নামে এক ওয়ার্কশপকে কেন্দ্র করে দীর্ঘকাল ধরে দেশীয় অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের মূল সন্দেহভাজন দুই ভাই—হাবিবুর রহমান ও মাহবুব রহমান। জেলা ডিবি-র উদ্ধার অভিযান ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিষয়টি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে অঞ্চলে বিস্তৃত প্রভাব ফেলেছে।
স্থানীয়রা জানান, দিনের বেলায় বৈধ ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ করলেও গভীর রাতে একই ওয়ার্কশপে পাইপগান, পিস্তল ইত্যাদি নির্মিত হতো ও বিক্রি হতো রাজধানী ও আশপাশের জেলায়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বহু লোকের অভিযোগ, তাদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পূর্বে কেউ সরাসরি প্রতিবাদ নিতে সাহস পায়নি।
অভিযুক্তদের পরিচয়: মোঃ হাবিবুর রহমান — স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম দড়ি হাইরমারা, রায়পুরা, নরসিংদী। পেশা: ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি (অভিযোগিত)।
মাহবুব রহমান — জন্ম ০৯/১০/১৯৯৬; পেশা: লেদ মেশিন টেকনিশিয়ান; স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় বলে জানা যায়।
স্থানীয় গোপন সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুর রহমান তার শ্বশুরের সঙ্গে যৌথভাবে ব্রিক ফিল্ডে আনুমানিক ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন — যা অভিযোগের সঙ্গে অর্থের উৎস ও সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে ঘিরে প্রশ্ন উত্থাপন করছে।
রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আদিল মাহমুদ’র সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে জানান:
“রাষ্ট্রীয় নাশকতা পরিকল্পনা কারী সহ সকল অপরাধী পাকড়াও করে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে। কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। রায়পুরার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানা পুলিশের যা যা করণীয় তা করতে আমরা সদা প্রস্তত আছি।”
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযান ও স্থানীয় সূত্রে কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে মূল নেটওয়ার্ক ভাঙতে এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। স্থানীয়রা দাবি করছেন—হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বড় চেইন সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত, স্বচ্ছ ও ব্যাপক তদন্ত জরুরি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত যে কোনো রাজনৈতিক বা অপরাধী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা প্রশাসনের প্রতি প্রত্যাশা। এই নিবন্ধটি অভিযোগভিত্তিক ও চলমান তদন্তের উপর নির্ভরশীল; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত/দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংবাদে ‘অভিযোগ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে