মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন

এ বি অপু :
জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভারতের কড়া অবস্থান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি দেশের সেনা প্রধান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সিডিএস অনিল চৌহান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল-এর সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। এই বৈঠকে সেনাবাহিনীকে পাহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার প্রতিক্রিয়ায় “কখন, কোথায়, কীভাবে” হামলা হবে তা নির্ধারণের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীকেও একই বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
এই বৈঠকের পর কাশ্মীরের ৪৮টি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে পর্যটকদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডাল লেক, পাহেলগাঁও, গুলমার্গ এবং সোনমার্গ। সরকারের বক্তব্য, পর্যটকদের সুরক্ষার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ায় দেখা গেছে, তাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি টিভি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন যে, তারা গত ৩০ বছর ধরে সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে, আমেরিকার হয়ে কাজ করেছে। এই স্বীকারোক্তি ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ এনেছে যে, ভারত তাদের ভূখণ্ডে হামলার চেষ্টা করেছে। যদিও তারা যে প্রমাণ পেশ করেছে, তা একাধিক জায়গায় অবিশ্বাস্য এবং ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র জানায়, ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। কূটনৈতিকভাবে আমেরিকা, ইসরায়েল, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, রাশিয়া এমনকি চীন পর্যন্ত এই মুহূর্তে ভারতের কঠোর অবস্থানের সামনে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকেও পরিস্থিতির আপডেট দিয়েছেন।
সবমিলিয়ে পাহেলগাঁও হামলার পর ভারত এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে। সময়, স্থান এবং কৌশল সেনাবাহিনী নির্ধারণ করবে এবং এই বিষয়ে আর কোনও পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই— এমনই বার্তা দিয়েছেন দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।