গত ২২ জুলাই, বুধবার সন্ধ্যায় টঙ্গীর শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের হলরুমে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মননচর্চার এক আন্তরিক আয়োজন সান্ধ্যকালীন সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়। পাঠাভ্যাসের বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন অঙ্গনের সাহিত্যপ্রেমী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও গুণীজন।
যুগান্তর স্বজন সমাবেশ টঙ্গী শাখার সভাপতি অলিদুর রহমান অলি-এর সভাপতিত্বে এবং শুচি পাঠচক্র ও পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহজাহান শোভন-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আড্ডায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাবনা মাশুমদিয়া কলেজের প্রভাষক আলাউল হোসেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন টঙ্গী কালচারাল সোসাইটির সভাপতি এ বি এম সাইদুল হক, অভিনেতা সালাম খান তরুণ, হাবিবুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
প্রধান আলোচক আলাউল হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন, অলিদুর রহমান অলি ভাইয়ের আন্তরিক আমন্ত্রণে আজ এখানে উপস্থিত হতে পেরে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞতা জানাইয়ে একটি জাতির আত্মপরিচয় নির্মাণে সাহিত্যের ভূমিকা অপরিসীম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমন মানুষের প্রতি আস্থা রাখতে শিখিয়েছেন, কাজী নজরুল ইসলাম অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সাহস জুগিয়েছেন। জীবনানন্দ দাশ মানুষের অনুভূতির গভীরে পৌঁছানোর পথ দেখিয়েছেন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মানবিকতার বাণী ছড়িয়েছেন এবং হুমায়ূন আহমেদ সাধারণ মানুষের জীবনকে সাহিত্যের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁদের সৃষ্টিকর্ম আজও আমাদের মনন, বিবেক ও সমাজ গঠনের প্রেরণার উৎস।
সভাপতির বক্তব্যে অলিদুর রহমান অলি বলেন, “সাহিত্যচর্চা মানুষের চিন্তা, বিবেক ও মূল্যবোধকে সমৃদ্ধ করে। একটি বইপ্রেমী সমাজই পারে সহমর্মিতা, নৈতিকতা ও মানবিকতায় সমৃদ্ধ আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে। তাই নিয়মিত পাঠচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুন্দর, আলোকিত ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
আড্ডার প্রতিটি মুহূর্ত ছিল জ্ঞান, অনুভূতি, সৌহার্দ্য ও সৃজনশীল ভাবনার এক অনন্য সম্মিলন। বইয়ের সুবাস, মুক্তচিন্তার আলো এবং প্রাণবন্ত আলোচনায় মুখর এই সান্ধ্য সাহিত্য আড্ডা উপস্থিত সবার হৃদয়ে রেখে যায় অনুপ্রেরণা, আশাবাদ এবং একটি আলোকিত সমাজ গঠনের নতুন প্রত্যয়।