কুমিল্লায়-এ ঈদ বোনাসের দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতাধিক দপ্তরী উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেও দাবি আদায় করতে পারেননি। প্রায় ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা ও দেনদরবার শেষে রোববার (২৪ মে) বিকেলে তারা অশ্রুসিক্ত চোখে বাড়ি ফিরে যান।
রোববার সকাল ১০টায় “দেবিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কল্যাণ সমিতি”-এর উদ্যোগে উপজেলার ১৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১০৪টি বিদ্যালয়ের দপ্তরীরা -এর সামনে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। পরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকেও ইতিবাচক সাড়া না পেয়ে বিকেল ৩টায় হতাশ হয়ে ফিরে যান তারা।
দেবিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দপ্তরী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও ৭৮ নম্বর বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মো. মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৫ সালের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে আমাদের মাসিক বেতনের অর্ধেক ঈদ বোনাস এবং ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও আমরা কোনো ভাতা পাইনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলাম।”
তিনি আরও জানান, কুমিল্লা ১৭টি উপজেলার মধ্যে মুরাদনগর, ব্রাহ্মণপাড়া, হোমনা, মনোহরগঞ্জ ও মেঘনা উপজেলায় দপ্তরীরা ইতোমধ্যে ঈদ বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু দেবিদ্বারের শিক্ষা অফিস ২০১৯ সালের একটি পরিপত্র দেখিয়ে তাদের বোনাস আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
২৯ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী মেশার রফ হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে বলে— বাবা তুমি কী চাকরি করো, আমাদের একটা জামাও কিনে দিতে পারো না? আমি বলেছিলাম বোনাস নিয়ে এসে সব আশা পূরণ করব। কিন্তু ৬ ঘণ্টা চেষ্টা করেও কিছু পেলাম না। এখন ছেলেকে কী জবাব দেব? আত্মহত্যা ছাড়া যেন আর কোনো পথ খোলা নেই।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, “শিক্ষা অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক জুম মিটিংয়ে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালের একটি পরিপত্র অনুযায়ী তারা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী। যতদিন কাজ করবেন ততদিন বেতন পাবেন, কিন্তু ভাতা বা বোনাসের উল্লেখ সেখানে নেই।”
তবে ২০২৫ সালের ২৪ মে’র একটি পরিপত্রে ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতার কথা উল্লেখ থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, “এ ধরনের কোনো পরিপত্র আমি পাইনি।”
অন্য উপজেলাগুলোতে বোনাস দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অঙ্গীকারনামা রেখে বোনাস দেওয়ার বৈধতা নেই। আগে দিয়ে থাকলেও এখন নিষেধ রয়েছে।”
এ বিষয়ে বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা অধিদপ্তরের। যেহেতু কুমিল্লা আরও কয়েকটি উপজেলায় বোনাস দেওয়া হয়েছে, তাই আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তবে কথা বলতে পারিনি।”