মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

ক্লোন, অবৈধ আমদানি ও চোরাচালানকৃত মোবাইল ফোন বন্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। বুধবার (১৯ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, দেশের বাজারে ক্লোন করা ও চোরাই পথে আনা ফোনের বিরুদ্ধে ‘কোনো ছাড়’ দেওয়া হবে না। এসব ফোন ব্যবহার করে সিমের ভুল রেজিস্ট্রেশন/ইকেওয়াইসি, এমএফএস জালিয়াতি, বাল্ক এসএমএস প্রতারণা, অনলাইন জুয়া–স্ক্যামিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে—যা রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও নাগরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিডা, ব্যাংকিং খাত, মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান, বিএফআইইউ ও এনবিআর দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছে। অবৈধ পথে এনে দেশকে ‘ডাম্পিং মার্কেটে’ পরিণত করার সুযোগ আর দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, বর্তমানে একটি আইএমইআই নম্বরে লাখো ফোন তৈরি করে দেশে ঢোকানো হচ্ছে। এনইআইআর চালু হলে তা আর সম্ভব হবে না, তাই মাফিয়া চক্র বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। লাগেজ পার্টি, ভুয়া এইচএস কোড, সীমান্ত চোরাচালানসহ পুরো অবৈধ আমদানি নেটওয়ার্ক বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বৈধ ফোন সাশ্রয়ী করতে এনবিআরের সঙ্গে আমদানি শুল্ক কমানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। দেশীয় উৎপাদকদের দাম কমানোর জন্যও বিটিআরসি অনুরোধ করেছে। বৈধ ফোনের দাম কমিয়ে গ্রাহকের স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বৈধ পথে বিদেশ থেকে আনা ফোন রেজিস্ট্রেশন সহজ করতে বিটিআরসি কাজ করছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগে অ্যাকটিভ থাকা সব ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ হিসেবে রেজিস্ট্রেশন হবে। নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করলে ঝামেলায় পড়তে হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসীদের ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে এক বা দুইটি ফোন ফ্রি আনার সুযোগ বহাল থাকবে। রেজিস্ট্রেশন, ডি-রেজিস্ট্রেশন ও রি-রেজিস্ট্রেশন আরও সহজ করতে প্রাপ্ত যৌক্তিক পরামর্শ গুরুত্বসহ বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ফয়েজ তৈয়্যব জানান।