একাধিক ফৌজদারি মামলায় বিভিন্ন সময়ে পুলিশ ও র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ফের গ্রেফতার হয়ে এবার মাদক (ইয়াবা) মামলায় কারাগারে সোর্স ও যুবলীগ নেতা মিজান। ইয়াবা যুব সমাজ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার । গত ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবারে কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর থানাধীন পুমদী ইউনিয়নে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে ডিবি পুলিশ অফিসার মোঃ তাহসীন হাবীব তালিমের নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্সের সহযোগিতায় ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন কিশোরগঞ্জের কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মিজান (৪৫) ও চয়ন মিয়া (৩৯), তাদের দেহ তল্লাশি করলে তারা দুইজনই বের করে দেয় সর্বমোট ১০৭ (একশত সাত) পিস ইয়াবা যা জব্দ তালিকায় ইতোমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। জানা যায়, তারা মূলতঃ মাদক কেনা বেচার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। পরে ১৪ আগষ্ট শুক্রবারে হোসেনপুর থানায় উপরোক্ত গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) এর সারণীর ১০ (ক) ধারা মোতাবেক নিয়মিত মামলা রুজু করেন গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) মোঃ তাহসীন হাবীব তালিম (০১৯৮৩-৭৯৩৭৪৮)। মাদক মামলা নং -১১। জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে গত ১৪ আগষ্ট শুক্রবারে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে ইতোমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে থাকা চয়ন পুমদী ইউনিয়নের হরিচন্দ্রপট্টি এলাকার খলিলুর রহমান তোতা মিয়ার ছেলে, অপরদিকে আরেক কারাবন্দি মিজান কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৮ নং মারিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া গ্রামের কাদির শিকদারের (কৃষক) বড় ছেলে। অনুসন্ধানে জানা যায়, অপকর্মই কারাবন্দি মিজানের পারিবারিক ঐতিহ্য। মিজানের সহোদর ছোট ভাই মকবুল হোসেন সরকারি বিদ্যুৎ চুরির মামলায় (নং- ৮০৬/২০২৩) আসামি হয়ে মোটা অংকের টাকা জরিমানা দিয়ে উক্ত মামলা থেকে খালাস পায় যা এখন ওপেন সিক্রেট । অপরদিকে, মিজান বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকেই মাদক ও দেহ ব্যবসা করে আসছে। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ অবৈধ টাকার মালিকও বনে গেছে সে। তাছাড়া, সে নিজ গ্রামে দীর্ঘদিন দেহ ব্যবসা করে গ্রামবাসীর হাতে একাধিক পতিতাসহ ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকারও হয়েছিল। পরবর্তীতে তার বাবা আঃ কাদির শিকদার ও আপন বোন জামাই মোজাম্মেল হক ওরফে আঙ্গুর (কুখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা) অসামাজিক ব্যবসা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উত্তেজিত জনতার কাছ থেকে মিজানকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে যান যা দৈনিক গৃহকোণ পত্রিকায় গত ০৪ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়। এখানেই শেষ নয়, ছাড়া পেয়ে মিজান ফের দেহ ব্যবসার পাশাপাশি মাদক ব্যবসা, প্রতারণা, জালিয়াতি, নারী নির্যাতন, ও চাঁদাবাজির মত নানা ফৌজদারি অপরাধে জড়িয়ে পড়ে । এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দৈনিক বাংলাদেশ কন্ঠ পত্রিকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় গত ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ইং তারিখে। তারপর, টনক নড়ে প্রশাসনের। শুরু হওয়া র্যাবের অভিযানে ২য় স্ত্রী মাহিনুরের দায়েরকৃত যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার হন নারী নিপীড়ক মিজান। জেল খেটে জামিনে এসে পরবর্তীতে ফের আরেক ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হন মিজান। এভাবেই একের পর এক নানা ফৌজদারি মামলায় জেল খেটে জামিনে এসে শুরু করে নানা অপকর্ম। এখানেই শেষ নয়, গডফাদারদের সহযোগিতায় মিজান জেল থেকে ছাড়া পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মডেল মসজিদের (নির্মাণাধীন) রড চুরি করে। গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে মসজিদের চোরাই রড বিক্রি করে ভ্যানে তুলে দেওয়ার সময় সাধারণ জনতার কাছে হাতেনাতে ধরা পড়ে সে। অবস্থা বেগতিক দেখে চোরাই রড রেখে দৌড়ে পালিয়ে যায় সে। পরে, উদ্ধারকৃত চোরাই রড মসজিদ কমিটিকে বুঝিয়ে দেন উপস্থিত জনতা। গ্রামবাসী মসজিদের রড চোর মিজানের বিচারের দাবিতে অটল থাকায় ছেলেকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে আত্মগোপনে যাওয়ার পরামর্শ দেন কাদির-মমতাজ দম্পতি। তাই, মসজিদের চোরাই রড উদ্ধার হলেও আজও চোর মিজানের বিচার করেনি কাদির-মমতাজ দম্পতি। গ্রামবাসীর ধারণা, বাপ-মা মিজানের অপরাধের বিচার না করাই সে বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এমতাবস্থায়, বাপ-মা তাদের দায় এড়াতে পারেন না। এদিকে, মিজানের রডচুরিসহ নানা ফৌজদারি অপরাধ, কারাবাস ও পারিবারিক কুকীর্তি নিয়ে গত ০৯ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকায়। তাছাড়া, মিজানের আপন মামারাও (ইউনুছ আলী ও ফজলুল হক ওরফে ফজলু) অপকর্মে ছিল না পিছিয়ে। তারা মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল সৃজন করেছিল। পরবর্তীতে, তাদের জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়গুলো আদালত আমলে নিয়ে জাল দলিলটি বাতিল ঘোষণা করেন। তাদের জালিয়াতি ও প্রতারণার উক্ত ঘটনাবলি নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে দৈনিক ঢাকা প্রতিদিন পত্রিকায় একটি তথ্যবহুল প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসীর অভিযোগ, গডফাদারদের মদদ থাকায় ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় সন্ত্রাসী ও যুবলীগ নেতা মিজান বেপরোয়াভাবে ফৌজদারি অপরাধ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় যে, কুখ্যাত আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রতারক মোজাম্মেল হক আঙ্গুর কারাবন্দি মিজানের অন্যতম প্রধান গডফাদার কেননা যখনই মিজান ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হন বা বিপদে পড়ে তখনই তাকে বাঁচানোর তৎপরতায় আঙ্গুর দৃশ্যমান হয় মোল্লাপাড়াবাসীর সামনে। এদিকে, প্রতারক আঙ্গুরের নানা অপকর্মের বিরুদ্ধে দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে “এক বিয়ের ৩ নিকাহনামা!” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গত ২০ জুন ২০২০ ইং তারিখে প্রকাশিত হয়। তাছাড়া, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় গত ২৯/১১/২০২৪ ইং তারিখে দায়েরকৃত হত্যা (নং-৪৩) মামলার এজাহারভুক্ত আসামী আঙ্গুর। এমতাবস্হায়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভুক্তভোগী পরিবারবর্গসহ সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসীর বিশেষ দাবি, যুব সমাজ ধ্বংসের কারিগর মাদক ব্যবসায়ী মিজান ও তার দোসরদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি যেন অবিলম্বে কার্যকর করা হয়। অন্যথায়, অপরাধ প্রবণতা বেড়ে সামাজিক শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও শান্তি নষ্ট হবে বলে ধারণা করছেন সচেতন মহল। উল্লেখ্য, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কারাবন্দি মিজান গংদের জামিন করাতে তৎপর রয়েছে তারই গডফাদাররা।