গাজীপুরে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় অভিযুক্ত নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তি ও ন্যায়বিচার কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নগরীর ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালপুর এলাকায় স্থানীয় মুরব্বি, প্রতিবেশী ও মানবতার বাতিঘর সংগঠনের উদ্যোগে গতকাল সন্ধ্যায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার, গাজীপুরের গণমানুষের নেতা মো. নুরুল ইসলাম দিপুসহ মামলায় অভিযুক্ত নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের রুহের মাগফিরাত এবং সংশ্লিষ্ট সব পরিবারের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. দুলাল মিয়া। এতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন এলাকার প্রবীণ মুরব্বি মো. মহিউদ্দিন মহি, বাবুল চৌধুরী ও আনোয়ার হোসেন।
দোয়া মাহফিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলেন মো. নুরুল ইসলাম দিপু। এ সময় তিনি বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম সরকার, আমি নুরুল ইসলাম দিপুসহ যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের কেউই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন।
তিনি বলেন, আমি আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছেলে জাহিদ আহসান রাসেলের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে বলেছি, তোমার বাবার আত্মার শান্তির জন্য যারা প্রকৃতপক্ষে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর যারা নির্দোষ হয়েও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে মামলায় আসামি হয়েছেন, তাদের অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হোক। তাহলেই তোমার বাবার আত্মার প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
নুরুল ইসলাম দিপু আরও বলেন, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছেন। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিরা আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তারা বলেন, কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যেমন জরুরি, তেমনি নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যাতে হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
দোয়া মাহফিল শেষে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের রুহের মাগফিরাত, মামলায় অভিযুক্ত নির্দোষ ব্যক্তিদের মুক্তি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সংশ্লিষ্ট সব পরিবারের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।