গাজীপুরের টঙ্গীতে ৫১ নং ওয়ার্ডের কথিত যুবদল নেতা বেলাল খানের বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই মামলায় তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জসিমকে গ্রেপ্তার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের গুলি ও লোহার তৈরি ছুরি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে টঙ্গীর সাতাইশ পূর্বপাড়া এলাকায় মাসকোট্রেক্সের পেছনে কুলসুম নামে এক নারীর মালিকানাধীন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই রাতেই টঙ্গী পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধির ৩৪৩, ৩৮৫ ও ৪০৬ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর-২১। গ্রেপ্তার জসিমকে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি বেলাল খান ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অনিক নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে রাখার অভিযোগ, চাঁদা দাবি এবং অন্যান্য অভিযোগের ভিত্তিতে বেলাল খান ও জসিমকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেলালকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তার বাসায়ও পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, সাতাইশ শরিফ মার্কেট এলাকার একটি বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে বেলাল খান প্রভাব খাটিয়ে দখলে রেখেছেন। ওই বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তার জসিম বেলাল খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছিলেন।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, জসিমের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া ডাকাতির প্রস্তুতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, জসিমকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ভাড়াটিয়া বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। বাসার তালা খুলে তল্লাশির সময় একটি ম্যাগাজিন, একটি পিস্তলের গুলি এবং লোহার তৈরি একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া এসব আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বেলাল খান টঙ্গীর সাতাইশ শরিফ মার্কেট এলাকার সামাল খানের ছেলে এবং ৫১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ডা. সজীব খানের চাচা বলে জানা যায়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বেলাল খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, বেলাল খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।