রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ি খ্রিস্টানপাড়া এলাকায় গাছের একটি ফুল ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের জেরে মোঃ মুক্তার আলী (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সামিনারা বেগম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোঃ মুক্তার আলী ও আমির হোসেনের পরিবার একই এলাকায় বসবাস করেন। সম্প্রতি মুক্তার আলীর মেয়ে শুকনো কাপড় আনতে গিয়ে পাশের একটি গাছ থেকে একটি ফুল ছিঁড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পরদিন ১৫ আগস্ট ২০২৬ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে** বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে মুক্তার আলী আমির হোসেনের বাসার সামনে যান। এ সময় আমির হোসেন, তার স্ত্রীসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নিহতের ছেলে জানান, হামলাকারীরা মুক্তার আলীকে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি ইট-পাটকেল ও ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে আঘাত করেন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল**ে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সামিনারা বেগম বাদী হয়ে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার বিষয়ে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ অলি নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—আনোয়ার হোসেন, আমির হোসেন, আমির হোসেনের স্ত্রী, মোহাম্মদ অলি, মোঃ আব্দুল্লাহসহ আরও কয়েকজন।
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের দাবি, সামান্য একটি ফুল ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।