বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নে বালুবোঝাই একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াত পথ বন্ধ হয়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কাজে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চরাদী ইউনিয়নের হলতা বাজার সংলগ্ন হালকা খালের ওপর নির্মিত সেতুতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নদীপথে বালু বহনকারী নিজাম ডাকুয়ার একটি বাল্কহেড সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর মাঝের পিলারে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় পিলার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুহূর্তেই সেতুর মাঝের অংশ ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে সেতু দিয়ে সব ধরনের যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানের অংশ ভেঙে নিচে
নেমে গেছে। এতে চরাদী, হলতা, সন্তোষদী, মকিমাবাদ ও দক্ষিণ চরাদীসহ অন্তত পাঁচটি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার মানুষ এ সেতু ব্যবহার করে চরাদী বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস এবং আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করেন। সেতু ধসে পড়ায় এখন তাদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুই-ই বাড়িয়ে দিয়েছে। চরাদী গ্রামের বাসিন্দা নাজমুল বলেন, এ সেতুটি আমাদের এলাকার মানুষের জীবনরেখা ছিল। বাল্কহেডের বেপরোয়া চলাচল এবং নৌপথে কার্যকর নজরদারির অভাবের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। হলতা বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সেতু ধসে পড়ার পর বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে গেছে। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারা দ্রুত সেতুটি সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান। এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হাসনাইন আহমেদ বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।