শরীয়তপুরের নড়িয়া ও সখীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবে হুগলি নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে সেতু। কিন্তু সেতুর নড়িয়া অংশের ১০৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পুরোপুরি চালু হয়নি সেতুটি। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দুই পাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, শত শত বছর ধরে হুগলি নদী নড়িয়া ও সখীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। নদী পারাপারে অতীতে নৌকাডুবিসহ নানা দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
অ্যাপ্রোচ সড়কসহ সেতুটি নির্মাণে ১১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৯২৫ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নিয়াজ আরকি জেবি ২০২১-২২ অর্থবছরে পিএসসি গার্ডার ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরু করে।
সখীপুর অংশের ১৮৩ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক ও মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। তবে নড়িয়া অংশের ১০৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণে জটিলতা দেখা দেওয়ায় সেটির নির্মাণ শেষ করা সম্ভব হয়নি।
ফলে সেতু নির্মাণের তিন বছর পেরিয়ে গেলেও পশ্চিম পাড়ের মানুষকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকু দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে। এতে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ব্রিজটি হওয়ার পরও আমরা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারছি না। অসুস্থ রোগী হলে অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো গাড়ি নিয়ে আসা যায় না। বাঁশের সাঁকু দিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। অ্যাপ্রোচ সড়কটি হয়ে গেলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
নড়িয়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জানান, পশ্চিম পাড়ে বসতি থাকায় এবং জমি অধিগ্রহণের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ আটকে আছে। সেখানে কাজ করতে গেলে কয়েকটি দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ দাবি করায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, জমি অধিগ্রহণ সম্ভব না হলে অধিগ্রহণ ছাড়াই কীভাবে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু প্রস্তুত থাকার পরও শুধু একটি অংশের অ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় এর সুফল পাচ্ছেন না হাজারো মানুষ।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত জমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন করে নড়িয়া অংশের ১০৫ মিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করা হোক। একই সঙ্গে সেতুটি দ্রুত পুরোপুরি চালু করে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে দুই পাড়ের মানুষকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।