শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে আশুলিয়া থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার তিতাস গ্যাস কর্মচারী শ্রমিক দল নেতা চাকরিচ্যুত শওকত ইমামের মানবেতর জীবনযাপন। বাকেরগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালী করতে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময় নির্মাণাধীন মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের ছাঁদ ধসে ক্ষয়ক্ষতি ! কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ !! প্রেমের অনন্য উপাখ্যান: কাপাসিয়ায় মালয়েশিয়ান তরুণী হাফিজা ও রাকিবের বিয়েতে নায়িকা প্রিয়াংকা ফোরকান মাস্টারকে ঘিরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে এলাকাবাসীর আহ্বান গংগাচড়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জি.আর চাল বিতরণ কোরবানির ঈদে পশুর সংকট নেই, ভারতীয় গরু ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আমীরসহ তিন মরহুমের জানাজায় শোকাবহ পরিবেশ কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে মিকাইল বিশ্বাসকে ঠেকানো যাবে না বললেন এলাকার সাধারণ জনগণ গাজীপুরে জুতা কারখানায় আগুন ভোলায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ৩ মাস ৭দিনের কারাদণ্ড। আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক ২ গাজীপুরে টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার পদ্মা নদীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল বিতর অনিয়মে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা গাজীপুরের তুরাগ নদীতে তলিয়ে যাওয়া বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই কিশোরের মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরনবীকে দেখতে জনতার ভিড়! বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ, সম্পাদক শামীমা পারভীন রাণীশংকৈলে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষক কিশোর গ্রেপ্তার প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আস্থাভাজন ছাত্রনেতা তানভীর অসুস্থ, দোয়া কামনা ২০৬ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫ মাদক ব্যবসায়ী সাতকানিয়ায় ২স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আটক-৪!ভিকটিমদেরকে উদ্ধার। আটিগ্রাম ভূমি অফিসের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি বাণিজ্য কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

কয়রার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য: সুন্দরবনের কোলে এক টুকরো সবুজ ইতিহাস

মেহেরব হোসেন কয়রা খুলনা প্রতিনিধি: / ৮৯ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন

সুন্দরবনের কোলঘেঁষা খুলনার শেষ প্রান্তের উপজেলা কয়রা। নদী, বন আর লবণাক্ত মাটির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকা মানুষের জনপদ হয়েও কয়রা তার ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে আজও অনন্য।

কয়রার দক্ষিণে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। আংটিহারা, কাশিয়াবাদ, কপোতাক্ষ আর শাকবাড়িয়া নদী ঘেরা এই উপজেলা রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, আর কুমিরের আবাসস্থল। পর্যটকদের কাছে কয়রা এখন সুন্দরবন ভ্রমণের অন্যতম প্রধান রুট। কয়রা সদর থেকে ঘন্টাখানেক গেলেই দেখা মেলে বনের কোল ঘেঁষা কেওড়া-গরান-সুন্দরীর সারি।

ইতিহাসের সাক্ষী মসজিদকুঁড়*
কয়রার আমাদি ইউনিয়নে আছে ৫৫০ বছরের পুরনো মসজিদকুঁড় মসজিদ। সুলতানি আমলের এই এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটি লাল ইট আর টেরাকোটার কারুকাজে সমৃদ্ধ। স্থানীয়দের বিশ্বাস, কোনো এক দরবেশের অলৌকিক ক্ষমতায় এক রাতেই এটি তৈরি হয়েছিল।

আইলা, আম্পান, ইয়াসের মতো ঘূর্ণিঝড়ে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কয়রার মানুষ হার মানেনি। নোনা পানিতে চিংড়ি চাষ, সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া মধু আহরণ আর গোলপাতা সংগ্রহ এখানকার প্রধান জীবিকা। নবান্ন উৎসব, পহেলা বৈশাখ আর রাসমেলায় এখনো বাউল গান, পালাগান আর জারি-সারিতে মুখর হয় গ্রাম। বাঘবিধবা পল্লীর নারীরা নকশিকাঁথা আর মাটির কাজে ফুটিয়ে তোলেন সংগ্রামের গল্প।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়রায় ইকো-ট্যুরিজম বিকশিত হচ্ছে। কমিউনিটি ট্যুরিজমের মাধ্যমে স্থানীয়রা হোমস্টে চালু করেছেন। বর্ষায় কপোতাক্ষের তীরে কাশবন, শীতে অতিথি পাখির কলকাকলি আর সারা বছর জোয়ার-ভাটার খেলা দেখতে ভিড় করছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

৫নং কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার আনিসুর রহমান জানান কয়রার সুন্দরবন-ঘেঁষা এই উপজেলায় বড় কোনো প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ না থাকলেও, কয়েকশ বছরের পুরনো কিছু জায়গা আছে যেগুলো এখনো দেখার মতো।

আমাদি ইউনিয়ন রয়েছে পুরাতন“মসজিদকুঁড়”।
ইতিহাসে*সবচেয়ে পুরানো মসজিদ যা দেখার মত একটি মসজিদ। পাশে কপোতাক্ষ নদী বয়ে গেছে,ইটের তৈরি এক গম্বুজ মসজিদ, নিরিবিলি পরিবেশ।

কপোতাক্ষ নদের পাড় ও পুরনো ঘাট*
কয়রার বুক চিরে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদ শত শত বছর ধরে এখানকার জীবনরেখা। নদীর পাড়ে এখনো ব্রিটিশ আমলের কিছু পুরনো ঘাট, ইটের স্থাপনার ভগ্নাংশ দেখা যায়। বর্ষায় নদী আর সুন্দরবনের কম্বিনেশনটা অসাধারণ।

সুন্দরবন সংলগ্ন পুরনো গ্রাম ও মাটির রাস্তা
শত বছরের পুরনো গ্রাম মহেশ্বরীপুর, মহারাজপুর, বাগালী—এসব এলাকায় এখনো মাটির রাস্তা, টিন-কাঠের পুরনো ঘর, আর পুকুরপাড়ে প্রাচীন বট-পাকুড় গাছ আছে। এগুলোই কয়রার লোকজ সৌন্দর্য।
আমাদি, বাগালী, মহারাজপুর এলাকায় কিছু পুরনো কালীমন্দির আর জমিদার আমলের দিঘি আছে।
ব্রিটিশ আমলের কয়রা সদর ও আশপাশে কয়েকটা নীলকুঠির ভিটা এখনো আছে। ইটের ভাঙা দেয়াল, শান বাঁধানো পুকুরঘাট

সবচেয়ে বড় পুরাতন সৌন্দর্য হলো সুন্দরবন নিজেই। কয়রা থেকে সরাসরি সুন্দরবনে ঢোকা যায়। কয়েকশ বছরের পুরনো সুন্দরী, গেওয়া, গরান গাছ, জোয়ার-ভাটার খাল—প্রকৃতির আদিম রূপটা এখানে ধরা দেয়। এবং খুব সহজে খুলনা শহর থে‌কে বাস বা প্রাই‌ভেটকার ও বাইক‌যো‌গে সরাস‌রি ৩ ঘন্টায় কয়রায় আসা যায়। তারপর কাটকাটা বা ৪নং কয়রা লঞ্জঘাট থে‌কে বোট ভাড়া ক‌রে সরাস‌রি সুন্দরব‌নের গহী‌নে অপ‌রুপ প্রাকৃ‌তিক দৃ‌শ্যে হা‌রি‌য়ে যাওয়া যাওয়ার সু‌যোগ আ‌ছে।

প্রকৃতি আর ইতিহাসের এমন মেলবন্ধনই কয়রাকে আলাদা করেছে। নদী ভাঙন আর জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ থাকলেও সুন্দরবনের এই জনপদ তার শেকড় আর সৌন্দর্য আঁকড়ে ধরে আগামীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *