শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর রাজউক এর বিরুদ্ধে উত্তরায় জমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বৈত নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একদিকে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাদের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, অন্যদিকে বৈধ প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় রাজউকের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে শত শত অবৈধ ফার্নিচার দোকান। এসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে, যাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
একাধিক সূত্র জানায়, এসব অবৈধ স্থাপনা দীর্ঘদিন ধরে দৃশ্যমান থাকলেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান খুব কমই দেখা যায়। বরং অভিযোগ রয়েছে—এই দোকানগুলোর মাধ্যমে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে সম্প্রতি উত্তরা প্রেসক্লাব এর ভবন ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, যেখানে আশপাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা টিকে আছে, সেখানে একটি প্রতিষ্ঠিত প্রেসক্লাবের ভবন কেন উচ্ছেদ করা হলো—তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা। তাদের দাবি, রাজউক যদি সত্যিই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে চায়, তবে তা হতে হবে সবার জন্য সমানভাবে—কোনো ধরনের বৈষম্য বা বাছবিচার ছাড়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নগর পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে রাজউক এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।