শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:২৯ পূর্বাহ্ন
২২ এপ্রিল বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরীর গাছা কুনিয়া তারগাছ এলাকায় অবস্থিত জমিলা জেনারেল হাসপাতালে রোগী, স্বজন ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক, দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির মালিক ও চিকিৎসক ডাঃ আফরোজা আক্তার ডলির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোগী লামিয়া শারমিন তানহা তার মা কামরুল নাহার মুন্নী ও বাবা রাজু আহম্মেদ শাহিনকে সঙ্গে নিয়ে গাইনী চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হাসপাতালে যান। এ সময় রোগীর স্বামী আশিকুর রহমান ইমনও উপস্থিত ছিলেন। রোগীর পরিবার তাদের শারীরিক সমস্যা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে চাইলে চিকিৎসক তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
তারা জানান, প্রশ্ন করার সময় চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে খারাপ আচরণ করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা নেওয়ার পরিবর্তে তারা চিকিৎসকের কাছ থেকে অশোভন আচরণের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়।
রোগীর পরিবারের দাবি, চিকিৎসক তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা বিভিন্ন জিনিসপত্র রোগীদের দিকে ছুড়ে মারেন। এমনকি একটি পেপার ওয়েট ছুড়ে মারার ফলে রোগী আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত রোগী ও স্বজনরা জানান, চিকিৎসকের এমন আচরণ দেখে তারা মানসিকভাবে ভীত ও হতাশ হয়ে পড়েন। তাদের মতে, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ ও সম্মানজনক পেশা, যেখানে রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও ভদ্র আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া উপস্থিত রোগীরা মনে করেন, চিকিৎসকের এমন আচরণ তার মানসিক অবস্থার বিষয়েও প্রশ্ন তুলছে।
তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে একজন রোগীর জন্য সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, ঘটনাটির সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও ওই চিকিৎসক অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে করে ঘটনাটি আরও সমালোচনার জন্ম দেয় এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত চিকিৎসকের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং তার আচরণ ও মানসিক অবস্থার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার গাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে হাসপাতাল পর্যায়ে কঠোর নজরদারি ও পেশাগত নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।