শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
নরসিংদী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এখন দুই কর্মচারীর হাতে জিম্মি। টেন্ডারবাজি, কেনাকাটায় অনিয়ম আর আউটসোর্সিং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে শূন্য থেকে কোটিপতি বনে গেছেন প্রধান সহকারী রহিম মোল্লা ও অফিস সহকারী মনছুর আহমেদ। জেলা শহরের প্রধান এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল অট্টালিকা ও বেনামে অঢেল সম্পদের তথ্য ফাঁস হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রহিম মোল্লার ‘মাতৃছায়া’ ও কোটি টাকার সাম্রাজ্য
তদন্তে জানা যায়, আড়াইহাজারের সাধারণ ঘরের সন্তান রহিম মোল্লা স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে চাকরিতে ঢুকে এখন প্রায় ৫০ কোটি টাকার মালিক। শহরের দক্ষিণ ভেলানগরে স্ত্রীর নামে গড়ে তুলেছেন পাঁচতলা বিশিষ্ট বিলাসবহুল ‘মাতৃছায়া ভবন’। এছাড়া পশ্চিম ভেলানগর মসজিদ রোডে রয়েছে নিজস্ব ‘মোল্লা ভবন’। ক্যাশিয়ার ও প্রধান সহকারীর দায়িত্বে থাকাকালীন দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সিন্ডিকেট প্রধান মনছুর ও নেপথ্যের কারিগর
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনেই দাঁড়িয়ে আছে অফিস সহকারী মনছুরের বিলাসবহুল পাঁচতলা ভবন। জেলার প্রতিটি হাসপাতালের খাবার সরবরাহ, লন্ড্রি ও মেডিসিন সাপ্লাইসহ আউটসোর্সিংয়ের সকল কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এই সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে, জনৈক বিতর্কিত বিতর্কিত সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবুর সহকর্মী গণমাধ্যমকর্মীর ছত্রছায়ায় মনছুর গং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন। এর আগে সমকাল, আজকের চেতনা ও সংবাদ পত্রিকায় তাদের কুকীর্তি প্রকাশিত হলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছেন।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রহিম মোল্লা সম্পদের কথা স্বীকার করে দাবি করেন, জমিগুলো অনেক আগে কম দামে কেনা। তবে একজন সামান্য কর্মচারী হয়ে কীভাবে এত অট্টালিকার মালিক হলেন, তার সদুত্তর মেলেনি।
বর্তমান সিভিল সার্জন বলেন
”আমি নতুন যোগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সম্পদের খবর জেনে বিব্রত। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শুদ্ধি অভিযানের অপেক্ষায় নরসিংদী
বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার শাখাওয়াত হোসেন বকুলের নেতৃত্বে নরসিংদীর স্বাস্থ্য বিভাগ এই ‘সাদা পোশাকের খুনি’ ও দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে মুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর। সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।