শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
নিজ জন্মভূমি ঝিনাইদহে শৈলকূপা উপজেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ৫ (পাঁচ) আগস্টের পর থেকে বর্তমান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অবকাঠামোসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগলেও উপজেলা সংস্কৃতিঅঙ্গন যেনো ক্রমেই স্থবির হয়ে পড়ছে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রেমী মানুষরা। কদিন আগেও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোঃ আসাদুজ্জামান শৈলকূপা মিলনায়তনে এক বক্তব্য বলছেন, আজ থেকে সকল সংস্কৃতি, সামাজিক এবং ভালো কাজের সকল দুয়ার খুলে দেওয়া হলো।
আশপাশের উপজেলার জমকালো ও সৃজনশীল আয়োজনের তুলনায় শৈলকুপার অনুষ্ঠানকে অনেকেই ‘দায়সারা’ বলে মন্তব্য করেছেন। অনেকের মতে, এ ধরনের আয়োজন অতীতের মতোই গতানুগতিক ধারার পুনরাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু নয়।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীরা বলছেন, একটি জাতিকে দুর্বল করতে হলে প্রথমেই তার সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে হয়। শৈলকুপার বর্তমান অবস্থা দেখে তাদের আশঙ্কা, এই জনপদ সেই পথেই হাঁটছে।
বিগত সরকারের সময়ও শৈলকুপার সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে। নেই আধুনিকতার ছোঁয়া, নেই নতুন সৃষ্টির উদ্যোগ—বরং আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে আয়োজনগুলো।
সাংস্কৃতিক সংগঠক, শিল্পী ও মিউজিশিয়ানদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বহুবার এ বিষয়ে শিল্পকলার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেও তেমন কোনো ফল পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ২০১২ সালে শিল্পকলা একাডেমির নির্বাচন স্থগিত করে তৎকালীন সরকার দলীয় প্রভাবের মাধ্যমে একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে, যা এখনো বহাল রয়েছে। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী এখানে একজন সংস্কৃতিমনা সাধারণ সম্পাদক থাকার কথা।
তাদের মতে, শুধুমাত্র অর্থ সংকটের অজুহাতে নিম্নমানের আয়োজন করে শৈলকুপার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে, যা পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও জেলার কাছে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এ অবস্থার জন্য দায় কার—উপজেলা প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নাকি সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
শৈলকুপার সচেতন সাংস্কৃতিকপ্রেমী মানুষ মনে করছেন, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, সুষ্ঠু নেতৃত্ব ও পরিকল্পিত সাংস্কৃতিক চর্চা। তারা সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে শৈলকুপার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য।