কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলায় প্রশাসনের বাধা উপেক্ষা করে শত বছরের পুরনো একটি সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ির রাস্তা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। এতে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া এলাকার খেলার মাঠ থেকে নাল্লামুখী খালটি মাটি দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির জন্য রাস্তা নির্মাণ করতে গিয়ে সুজাত আলীর ছেলে ঈসমাইল হোসেন, ইউনুছ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং ইসমাইল মিয়ার ছেলে নুরুন্নবী তুষারসহ কয়েকজন ব্যক্তি খালটি ভরাট করছেন। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পুলিশ কনস্টেবল হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে এ কাজ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলে রাব্বি জানান, ব্রিটিশ আমলের প্রায় ২০-২৫ ফুট চওড়া ও দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল দিয়ে একসময় নৌকা চলাচল করত এবং কৃষিপণ্য পরিবহন করা হতো। বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখল করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরেজমিনে এসে খাল ভরাটে বাধা দিলেও তা অমান্য করে আবারও ভরাট কাজ চালানো হয়েছে।
এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা—বশিরুল আলম, শানু মিয়া ও ফরিদ উদ্দিন—বলেছেন, খালটি বহু পুরনো এবং বর্ষা মৌসুমে এখানে দেশীয় মাছ পাওয়া যায়। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কৃষিজমিতে এই খাল থেকেই সেচ দেওয়া হয়। খালটি ভরাট হয়ে গেলে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুন্নবী তুষারের বাবা ইসমাঈল হোসেন খাল ভরাটের কথা স্বীকার করে বলেন, “এটা পুরনো সরকারি খাল, কিন্তু বাড়ি নির্মাণের জন্য চলাচলের সুবিধায় ভরাট করা হচ্ছে।” তিনি দাবি করেন, স্থানীয় ভূমি কর্মকর্তারাও বিষয়টি জানেন।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম জানান, খাল ভরাটের বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপরও কেউ আইন অমান্য করে খাল ভরাট করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।