শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ন
নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসভার শান্তিনগর এলাকায় একটি বসতবাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীসহ অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (০৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী সোনালী সূত্রধর জানান, দুপুরে স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পর তিনি দেখতে পান স্বর্গীয় অরবিন্দ মোহন পন্ডিতের বাড়ির লাকড়ি রাখার স্টোররুমের চালের ওপর দিয়ে আগুনের শিখা বের হচ্ছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সড়কে গিয়ে স্থানীয়দের খবর দেন। তবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
স্থানীয়রা আগুন নেভাতে ছুটে এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন মানিক সরকার, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক সালমান আহমেদ, সুমন খান, এ এইচ রবিন খান এবং চিরাং মোড়ের টিভি মেকানিক সজল (রায়পুর)। এছাড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী আজিজুল হকও আহত হন।
আহতদের দ্রুত কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে মানিক সরকার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। গুরুতর আহত দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সাংবাদিক সালমান আহমেদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করা হয়েছে।
খবর পেয়ে প্রায় ২০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে টানা প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করে।
জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি স্বর্গীয় অরবিন্দ মোহন পন্ডিতের মালিকানাধীন। তবে সেখানে তার পরিবারের কেউ বসবাস করতেন না। বাসাটি ভাড়া নিয়ে থাকতেন শিলা রানি (৬৫)। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে অনুপস্থিত ছিলেন।
ফায়ার ফাইটার মাহবুব জানান, আগুনে প্রায় ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরটিতে বিপুল পরিমাণ চাল, ডাল ও ময়দা মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘন বিষাক্ত ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এতে আগুন নেভাতে গিয়ে অনেকেই শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। উদ্ধারকাজ চলাকালে প্রায় ৫০ হাজার টাকা নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বর্গীয় অরবিন্দ মোহন পন্ডিত কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা তাপস ব্যানার্জির দাদা।
কেন্দুয়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।