শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
তথ্য অধিকার আইনে চাহিত নথির বিপরীতে অস্বাভাবিক ফি দাবির ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিতর্ক। ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা দাবি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার বিষয়টি তথ্য কমিশনে গড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন আবেদনকারী।
আবেদনকারী মো. তাওসিফ হাওলাদার জানিয়েছেন, নির্ধারিত ফি কাঠামোর সঙ্গে এই বিপুল অঙ্কের কোনো সামঞ্জস্য নেই। তাই তিনি বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আইনগতভাবে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন,
“তথ্য অধিকার আইনে নির্ধারিত ফি অত্যন্ত সামান্য। সেখানে এমন অস্বাভাবিক অর্থ দাবি করা আইনের অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। আমি এ বিষয়ে তথ্য কমিশনে আপিল করব।”
ফি নির্ধারণে অসঙ্গতির অভিযোগ
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অধিদপ্তর যে অঙ্কটি দাবি করেছে তা মূলত বিপুল সংখ্যক নথি ফটোকপি ও প্রস্তুত ব্যয়ের অজুহাতে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘যৌক্তিক ফি’ ধার্য করার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
এক্ষেত্রে তথ্যের পরিমাণ বেশি হলে আবেদনকারীকে নথি পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার বিধানও রয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম খরচে সম্পন্ন করা সম্ভব।
তথ্য গোপনের অভিযোগ আরও জোরালো
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট টেন্ডার, মূল্যায়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে উচ্চ ফি দাবি করায় অনেকেই এটিকে তথ্য গোপনের কৌশল হিসেবে দেখছেন।
সুশাসন বিশ্লেষকরা বলছেন,
“যখন কোনো সংস্থা অস্বাভাবিক ফি নির্ধারণ করে, তখন সেটি প্রায়শই তথ্যপ্রাপ্তির পথে বাধা তৈরি করার একটি পদ্ধতি হয়ে দাঁড়ায়।
আইন কী বলছে
তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী,
নির্ধারিত হারে ফটোকপি ফি খুবই কম
তথ্য সরবরাহে অযৌক্তিক ব্যয় আরোপ করা যাবে না
আবেদনকারী চাইলে নথি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন
অসন্তুষ্ট হলে তথ্য কমিশনে আপিল করা যাবে
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্ষেত্রে তথ্য কমিশন সাধারণত ফি পুনঃনির্ধারণ বা বিনামূল্যে তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে।
প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাটি সামনে আসার পর প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন,
যদি তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়াই জটিল ও ব্যয়বহুল করে তোলা হয়, তবে সাধারণ নাগরিকের জন্য আইনটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আবেদনকারী শিগগিরই আনুষ্ঠানিক আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে , তথ্য কমিশনের সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে,এই ঘটনা একটি বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, নাকি বৃহত্তর প্রবণতার ইঙ্গিত।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই জনমনে নানা প্রশ্ন ঘনীভূত হয়েছে। প্রকল্পটির আড়ালে কারা রয়েছেন, কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না,তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও জল্পনা।”