1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম – মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৪ নং পৈল ইউনিয়ন বাসীকে ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানালেন ফ্রান্স প্রবাসী ৪ নং পৈল ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ সোহেল রানা ভাই ।  শিবচরে গণউন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতারণায় নিঃস্ব নিম্নআয়ের মানুষ মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন বিএনপি’র ৪৮- তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে মৎস্য অবমুক্ত করন। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র টঙ্গীর মাজার বস্তির তিন বিঘা জমি দখলমুক্ত করে বুঝে নিল রাজউক এমপি না হয়েও প্রতিশ্রুতি রাখছেন বাপ্পী; ২১৮ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ নীলফামারীতে ৭৯৪ বস্তা অবৈধ সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা সোনারগাঁও থানা পুলিশ কর্তৃক ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ ১ জন নারী  মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার শাহজালালে থার্ড টার্মিনালের ওপর থেকে পিকআপ পড়ে বিমানবাহিনীর ৩ সদস্য নিহত, আহত ৪

ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে স্ত্রী সন্তানদের হারিয়ে শোকে কাতর ঝিনাইদহের পিন্টু মিয়া

সৌভিক পোদ্দার
  • Update Time : Tuesday, March 24, 2026,
  • 93 Time View
একটি যাত্রা, একটি দুর্ঘটনা। আজ সেই দুর্ঘটনায় কেড়ে নিল জীবনের সবকিছু। ঝিনাইদহ মহেশপুর উপজেলার পিন্টু মিয়া এখনো বেঁচে আছেন,কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি যেন নিঃশেষ হয়ে গেছেন।
রোববার ভোর রাতে কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাস-ট্রেনের সংঘর্ষের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হারিয়ে শোকে কাতর হয়ে গেছেন পিন্টু মিয়া।
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার মানিকদীতে বসবাস করেন পিন্টু মিয়া। পেশায় তিনি একজন বাসচালক। ঈদের ছুটি কাটাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে গিয়েছিলেন গ্রামের বাড়িতে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কাটানো সেই ঈদই যে তার জীবনের সবচেয়ে বড় শোক হয়ে ফিরে আসবে তা কল্পনাও করেননি তিনি। যে মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাস তিনি চালান, সেই বাসই যে তার স্ত্রী, সন্তানদের প্রাণ কেড়ে নেবে তা কখনো স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।
ঈদের দিন বিকেলে সিদ্ধান্ত হয়, স্ত্রী লাইজু আক্তার এবং ২ (দুই) মেয়ে ৮(আট) বছরের খাদিজা আক্তার ও ৩( তিন) বছরের মরিয়ম আক্তারকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি লক্ষ্মীপুরের হাজিরহাটে পাঠাবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। কিন্তু পিন্টু নিজে সেই বাসে থাকেননি। কারণ, সৌদি আরব থেকে আসছিলেন তার শ্যালক। তাকে আনতে ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন ছিল। তাই স্ত্রী-সন্তানদের বাসে তুলে দিয়ে নিজে ঢাকায় নেমে যান। সেই নামাটাই যেন হয়ে দাঁড়ায় জীবন-মৃত্যুর সীমারেখা।
পিন্টু মিয়া বলেন, ‘আমি যে বাস চালাই, সেই “মামুন স্পেশাল” পরিবহনেই আমার স্ত্রী-সন্তানদের মৃত্যুর হাতে তুলে দিলাম। সহকর্মী চালকের কাছে তাদের দায়িত্ব দিয়ে নিজে ঢাকায় নেমে গেলাম। তখন ভাবিনি এটাই শেষ দেখা।’
পিন্টু মিয়া নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন সহকর্মীর সঙ্গে। জানতে চাইছিলেন স্ত্রী-সন্তানদের খবর। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার পর হঠাৎই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ‘রাত ৩(তিন)টার পর থেকে আর কোনো যোগাযোগ পারেননি তিনি, ফোন বন্ধ থাকার কারণে বারবার চেষ্টা করেও স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। এরপর আসে সেই ভয়ংকর দুর্ঘটনার খবর’ কাঁপা কণ্ঠে বলেন তিনি।
শনিবার দিবাগত রাত ৩(তিন)টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে ট্রেন-বাস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনের সঙ্গে নোয়াখালী-লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় বাসটি। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১২ (বার)জন। এই নিহতদের মধ্যে ৩(তিন)জন হলেন পিন্টু মিয়ার স্ত্রী এবং ২(দুই)আদরের মেয়ে। খবরটি শোনার পর যেন পাথর হয়ে যান পিন্টু। বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। যে বাসে তিনি নিজে প্রতিদিন চালান, সেই বাসই কেড়ে নিল তার সবকিছু।
শোকে স্তব্ধ পিন্টু মিয়ার চোখে অশ্রু নেই-কান্নাও যেন শুকিয়ে গেছে। তার প্রাণ যেন নিথর হয়ে গেছে। পিন্টু মিয়া বলেন, ‘আমি বেঁচে আছি, কিন্তু আমার ভেতরে কিছুই নেই। আমার স্ত্রী-সন্তানই ছিল আমার জীবন। আজ তারা নেই, আমি বেঁচে আছি, বেঁচে থেকেও যেন আমি মৃত।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে তখন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের আহাজারি, কান্না, শোকের মাতম সবকিছুর মাঝেও পিন্টু মিয়া দাঁড়িয়ে আছেন নিশ্চুপ। তার চারপাশে আত্মীয়স্বজনেরা মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায়। কিন্তু তিনি যেন অন্য এক জগতে হারিয়ে গেছেন। এই দুর্ঘটনা শুধু একটি পরিবার নয়, একাধিক পরিবারের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে। কিন্তু পিন্টু মিয়ার গল্পটি যেন সবচেয়ে বেশি হৃদয় ভেঙে দেয়-যে বাসের স্টিয়ারিং ধরে তিনি মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতেন, সেই বাসেই তার আপনজনদের প্রাণ চলে গেল।
Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ