
ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ॥ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সামনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে। এ অবস্থায় কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা মব সৃষ্টির সুযোগ না নেয়, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে। যেকোনো মব শক্ত হাতে দমন করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নেহা নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। “খাল কাটা হলে সারা, দূর হবে বন্যা-খরা” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “আমরা কাজ করতে এসেছি। একদল বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করে, তারা এবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। আমরা ভোট দিয়ে জান্নাতের টিকিট নেওয়ার দলে না, আমরা কাজ করে, আরো পরিশ্রম করে বেহেশতে যাবো।”
তিনি সততার সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার খাল খনন করা হবে। ১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম খাল কাটার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে উদ্যোগ যদি ধারাবাহিকভাবে চলত, তাহলে দেশে আজ পানির এমন সংকট তৈরি হতো না। উদ্বোধনের পর যেন এই কার্যক্রম থেমে না যায়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
নিজ দলের নেতাকর্মীসহ সকলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের প্রভাবেও দেশের ক্ষতি হয়েছে। জ্বালানি তেল নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কদিন আগে তেল না পেয়ে কিছু লোক পেট্রোলপাম্পে হামলা চালিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে জানান।
সভায় তিনি আরও বলেন, নারীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ফলে প্রতিটি পরিবারে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে তারা অবহেলার শিকার না হন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকারিয়া মণ্ডলসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নেহা নদীর ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। স্থানীয়দের আশা, নদী পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা কমবে, কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং বন্যা-খরার প্রভাব মোকাবিলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।