শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সাভারের আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো পুকুর পাড় এলাকায় গড়ে ওঠা সেমাই কারখানাগুলোতে চলছে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরির মহোৎসব। বিএসটিআই-এর অনুমোদন ছাড়াই একদল অসাধু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এসব সেমাই বাজারজাত করছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
সরেজমিনে জিরাবো পুকুর পাড় এলাকার বেশ কিছু কারখানা ঘুরে দেখা গেছে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। স্যাঁতস্যাঁতে ও নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে শ্রমিকরা সেমাই তৈরি করছেন।
শরীরের ঘাম সরাসরি মিশছে ময়দার খামিরে। শুধু তাই নয়, সেমাইয়ের রঙ আকর্ষণীয় করতে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেক্সটাইল ডাই (কাপড়ের রঙ), যা মানবদেহের জন্য বিষতুল্য। খোলা জায়গায় ধুলোবালির মধ্যেই শুকানো হচ্ছে এসব সেমাই, যেখানে মাছি ও পোকামাকড় অবাধে বিচরণ করছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই এলাকার অধিকাংশ কারখানারই বিএসটিআই (BSTI) বা পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। এমনকি প্যাকেটের গায়ে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের সময় বা উপাদানের সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। কিছু অসাধু চক্র নামী-দামী ব্র্যান্ডের প্যাকেট নকল করে এসব নিম্নমানের সেমাই বাজারে সরবরাহ করছে।
চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর সেমাই খেলে লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক জানান, “টেক্সটাইল রঙে থাকা কেমিক্যাল ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি কয়েকগুণ বেশি।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় জিরাবো পুকুর পাড় এলাকায় প্রতি বছরই ঈদের আগে এই অবৈধ কারবার চলে।
এলাকাবাসী অতি দ্রুত এসব কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির বিষয়ে আমরা শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করেছি।
খুব শীঘ্রই জিরাবো এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”