শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:২২ পূর্বাহ্ন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে এবার ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লার মধ্যে লড়াইয়ের জোর সম্ভাবনা দেখছেন ভোটাররা। জয়ের ফসল ঘরে তুলতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইন্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপি ভোটারদের মন জয়ে মরিয়া হয়ে নির্বাচনি মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন, দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি।
নির্বাচনি প্রচারনার শেষ দিনগুলোয় গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের ধারণা, ভোটের দৌড়ে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধান ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত হুইপ জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে ইন্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার সাবেক ভিপি মু. গোলাম কিবরিয়াকে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ আল কায়েস এবং এবি পার্টী মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা। বিজয়ের ব্যাপারে তারাও শতভাগ আশাবাদী।
শেরপুর-২ আসন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে জামায়াতে ইসলামী শূন্য থেকে এখন বেশ জনপ্রিয় ও ভোটব্যাংক তৈরিতে সক্ষম হয়েছে ।এমনটা আশাবাদী জামায়েত ইসলামী। অন্যদিকে এখানকার রাজনীতিতে জনপ্রিয় মুখ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর গুণে তার ছেলে ফাহিম চৌধুরীর পাল্লাও বেশ ভারী। একদিকে ফাহিম চৌধুরীর অবস্থান যেমন শক্ত, তেমনি নিজ গুণেই সমৃদ্ধ হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া। এ দুই যুবক প্রার্থীই এবার ভোটারদের মূল আকর্ষণ।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবারের নির্বাচনের হিসাব ভিন্ন। বিগত কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির যিনিই প্রার্থী হয়েছেন, তাদের সবাই ছিলেন নকলার বাসিন্দা। এবার নালিতাবাড়ীর সন্তান গোলাম কিবরিয়া হয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী। নকলার সন্তান ফাহিম চৌধুরী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী। নালিতাবাড়ীতে ভোটের পরিমাণ বেশি হলেও নকলায় ভোটের পরিমাণ কম। এছাড়া তরুণ ভোটাররা এবার ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবেন। অতীতের কর্মকাণ্ড, তারুণ্য, প্রচারের কৌশল আর ব্যক্তিত্বের কারণে যিনি ভোটারদের মধ্যে বেশি সাড়া জাগাতে পারবেন, তিনিই বিজয়ী হবেন বলে তাদের ধারণা।
বিএনপির প্রার্থী ফাহিম চৌধুরী জানান, তিনি যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই বেশ সাড়া পাচ্ছেন। সব জায়গায় তার বাবা মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে। যেসব
এলাকায় এখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, সেসব এলাকায় তিনি কাজ করবেন। বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
জামায়াতের প্রার্থী গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি নির্বাচিত হলে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি থাকবে না এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এতদিন ভোটাররা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে দেখেছেন। এবার তারা নতুন কাউকে দেখতে চান। এছাড়া খেলাধুলা, শিক্ষা-সংস্কৃতিসহ সবক্ষেত্রে তিনি প্রায় দেড় বছর ধরে কাজ করে আসায় তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের সমর্থন তিনি পাচ্ছেন বলেও জানান। বিজয়ের ব্যাপারে তিনিও শতভাগ আশাবাদী বলে দাবি করেন।
শেরপুর-২ আসনে মোট ২১টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভায় ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৫৪টি। মোট ভোটার চার লাখ ৪০ হাজার ৩৪ জন। পুরুষ ভোটার দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ এবং নারী ভোটার দুই লাখ ২৪ হাজার ২৪৮ জন।