শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
আবাসিক এলাকার ভেতরে নিয়মবহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা ‘টোটাল এগ্রো সাইন্স’ নামক কৃষি রাসায়নিক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লোকালয়ের ভেতরে বিষাক্ত কীটনাশক ও আগাছানাশক মজুত এবং বাজারজাতকরণের বিষয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে কারখানাটির ম্যানেজার কোনো প্রকার বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অস্বীকৃতি জানান।
তথ্য দিতে অস্বীকৃতি ও ধোঁয়াশা
সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অত্যন্ত গোপনে চলছে ‘সিওর ১০ ডব্লিউ পি’ সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্যাকিং ও বিপণন কাজ। কারখানাটির পরিবেশ ছাড়পত্র বা আবাসিক এলাকায় কার্যক্রম চালানোর অনুমতি আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কারখানার ম্যানেজার উদ্ধত আচরণ করেন। তিনি সরাসরি জানান, “কারখানার নথিপত্র সাংবাদিকদের দেখাতে আমরা বাধ্য নই।” ম্যানেজারের এমন রহস্যজনক আচরণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই বিষাক্ত রাসায়নিকের কারবার চলছে।
বিপজ্জনক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
কারখানাটি থেকে বাজারজাতকৃত ‘সিওর ১০ ডব্লিউ পি’-এর মোড়ক অনুযায়ী এটি একটি শক্তিশালী আগাছানাশক (পাইরাজোসালফুরান-ইথাইল)। এর গুঁড়ো বা গন্ধ বাতাসে মিশলে আশপাশের বাসিন্দাদের দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রোগ ও চোখের ক্ষতি হতে পারে। অথচ কোনো ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা বা নিরাপত্তা চিহ্ন ছাড়াই সাধারণ আবাসিক ভবনের মতো করেই এখানে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, “যদি সব কাগজপত্র ঠিকই থাকত, তবে ম্যানেজার তা দেখাতে ভয় পেতেন না। আবাসিক এলাকায় এমন বিপজ্জনক ব্যবসা আমাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।”
পরিবেশ আইন ও শিল্পনীতি অনুযায়ী, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি করে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসিক এলাকায় থাকার অধিকার রাখে না। এলাকার সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে এই অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।