শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
হযরত দাউদ (আ.)-এর এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আসল ঠিকানা পরকাল, যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য
শের ই গুল:
বর্ণিত আছে , হযরত দাউদ (আ.) যখন পাহাড়ের নির্জনতায় আল্লাহর তসবিহ পাঠ করছিলেন, তখন তিনি একটি গুহার সন্ধান পেলেন। কৌতূহলী হয়ে তিনি গুহার ভেতরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে এক বিশালদেহী মানুষের কঙ্কাল দেখতে পেলেন। লোকটির শিয়রে একটি পাথর রাখা ছিল, যাতে কিছু কথা খোদাই করা ছিল।
“আমি হলাম ‘ওয়াসিম’, সান’আ (ইয়েমেন) এর রাজা। আমি এক হাজার বছর এই দুনিয়া শাসন করেছি। আমি এক হাজার শহর জয় করেছি এবং এক হাজার শক্তিশালী বাহিনীকে পরাজিত করেছি। আমি এক হাজার রাজকন্যাকে বিবাহ করেছি এবং এক হাজার প্রতাপশালী জালিমকে নিজ হাতে হত্যা করেছি।
আজ যে ব্যক্তি আমার এই অবস্থা দেখছ, সে যেন এই দুনিয়ার ধোঁকায় না পড়ে। কারণ, আমার এই হাজার বছরের রাজত্ব আজ আমার কাছে কেবল একটি ‘স্বপ্ন’ ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।
অবশেষে আমার পরিণতি তাই হয়েছে যা তুমি আজ দেখছ— আজ মাটিই আমার বিছানা এবং পাথরই আমার বালিশ। সুতরাং, আমাকে যে দেখছ, সে যেন দুনিয়ার চাকচিক্যে প্রলুব্ধ না হও, যেমনটি আমি হয়েছিলাম।”
দুনিয়া মানুষের কাছে রঙিন মনে হলেও এটি খুবই ক্ষণস্থায়ী। আজ যার হাতে ক্ষমতা, কাল সে কবরের তুচ্ছ মাটি। হাজার বছরের রাজত্ব আর অগাধ সম্পদ কিছুই সাথে যাবে না; কেবল পড়ে থাকবে একটি কঙ্কাল আর কিছু স্মৃতি। হযরত দাউদ (আ.)-এর এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আসল ঠিকানা পরকাল, যার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য।
সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ ( ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)