শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
জামি’আতুস সাহাবাহ ঢাকার ক্বাল হাদ্দাসানার শেষ হাদীসদের দরস তথা খতমে বুখারী শরীফ ৩১শে ডিসেম্বব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ।
প্রতি বছরের ন্যায় ২০২৫/২৬ ইংরেজী শিক্ষাবর্ষে জামি’আতুস সাহাবাহ ঢাকার ক্বাল হাদ্দাসানার শেষ হাদীসদের দরস তথা খতমে বুখারী শরীফ আগামীকাল ৩১শে ডিসেম্বব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ।
জামি’আতুস সাহাবাহ ঢাকার বরেন্য আলেম ওলামা
আদীব মুফতি সুহাইল আহমদ
সিনিয়র মুহাদ্দিস ও শিক্ষা সচিব জামিয়াতুস সাহাবাহ উত্তরা ঢাকা
লিসান্সঃ আল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় রিয়াদ সৌদি আরব
প্রতি বছরের ন্যায় ২০২৫/২৬ ইংরেজী শিক্ষাবর্ষে জামি’আতুস সাহাবাহ ঢাকার ক্বাল হাদ্দাসানার শেষ হাদীসদের দরস তথা খতমে বুখারী শরীফ আগামীকাল ৩১ শে ডিসেম্বব অনুস্টিত হতে যাচ্ছে । শেষ সবক প্রদান করবেন উস্তাযুল মুহাদ্দিসীন আল্লামা শেখ বাহা উদ্দীন হাফিযাহুল্লাহ শাইখুল হাদীস জামি’আ রাহমানিয়া সাত মসজিদ মুহাম্মদপুর ঢাকা ।
বিজ্ঞ-প্রাজ্ঞ দূরদর্শী -পারদর্শী বিদগ্ধ রাহবার জামেয়ার স্বনামধন্য প্রিন্সিপাল মাওলানা আফজাল হোসাইন দাঃবাঃ এর স্বাগতিক বক্তব্যের মধ্যদিয়ে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করার নিমিত্তে আগামীকাল ৩১ শে ডিসেম্বর জামি’আর ক্বাল হাদ্দাসানা এ বছরের শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তি হবে ইনশা আল্লাহ । আসুন খতমে বুখারীর ফযিলত কী তার অন্তঃআত্মা জেনে নেই , পরিচিত হই তার সাথে গভীর ভাবে আপন করে নেই তাকে নিষ্টার সাথে !
প্রিয় পাঠক বুখারী শরীফ খতমের মজলিস আল্লাহ তাআলার কাছে বড় প্রিয় মজলিস। যে মজলিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস পাঠ করা হয়, সে মজলিসের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা মোবারকের সরাসরি সম্পর্ক হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা সেই মজলিসকে একদল ফেরেশতাদের দ্বারা ঘেরাও করে রাখেন। সেই মজলিসে উপস্থিত সবাইকে আল্লাহ তাআলা মাফ করে দেন।
ইমাম বুখারী রহ. এর বুখারী শরীফ সংকলণের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুহাদ্দিসিনগন বলেন, ইমাম বুখারীর সময়কালে ইসলামের দুশমনরা ইসলামকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে এক দূরভিসন্ধি করলো। তারা জাল হাদীস বানানো শুরু করলো। একদিন ইমাম বুখারী রহ. স্বপ্ন দেখলেন তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দেহ মোবারক থেকে মাছি তাড়াচ্ছেন। তখন তিনি ঐ যামানার একজন বিশিষ্ট আলেমের কাছে এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাইলে আলেম তাকে জানালেন, এ স্বপ্নের অর্থ হলো তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসকে ‘জাল হাদীস’ মুক্ত করবেন। সেই থেকে তিনি হাদীস সংকলণ শুরু করেন।
বুখারী শরীফ আল্লাহ তাআলার কাছে গ্রহণযোগ্য এক কিতাব’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইমাম বুখারীর সহীহ নিয়্যতের কারণে আল্লাহ তাআলা বুখারী শরীফকে কবুল করছেন। সারা দুনিয়ায় এই কিতাবকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ওলামায়ে কেরাম বলেন, কেউ যদি কসম খেয়ে বলে বুখারী শরীফে কোনো জাল হাদীস নেই, তাহলে তার কসম মিথ্যা হবে না। বুখারী শরীফ আল্লাহ তাআলার কাছে বড় প্রিয় কিতাব। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই কিতাব খতম করে যেকোনো নেক দোয়া করলে আল্লাহ তাআলা তা অবশ্যই কবুল করেন।
“বুখারী শরীফের শেষ হাদীসে ‘আমলনামা পাল্লায় ওজন করা’ প্রসঙ্গের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা যায় , বিজ্ঞান সঠিক পথে চললে ইসলামের সাথে মিলে যায়। বিজ্ঞানীরা এক সময় বলতো, যেসব জিনিসের আকৃতি নেই, দৈর্ঘ্যপ্রস্থ নেই, সেসব জিনিসের ওজন করা যায় না, মাপা যায় না, তাই আমলনামাও মাপা যাবে না। কিন্তু ইমাম বুখারী প্রমাণ করেছেন যে, অস্তিত্বহীন জিনিষকেও পরিমাপ করা যায়। ইমাম বুখারী যেটা তার যামানায় প্রমাণ করেছেন, বিজ্ঞানীরা কিছুকাল আগে সেটা প্রমাণ করেছে। তারা প্রমাণ করেছে বাতাসও পরিমাপ করা যায়। এমনকি মানুষের মনের অনূভুতিও আজকাল পরিমাপ করা যায় ”
আগেরকালের মানুষ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিরাজকে অস্বীকার করতো। কারণ তারা বিষয়টাকে সম্ভব মনে করতো না। কিন্তু বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা এখন খুব সহজেই বুঝতে পারি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিরাজ সত্য ছিলো। মিরাজ কোনো বানোয়াট বিষয় ছিলো না। সুতরাং বলা যায়, বিজ্ঞান সঠিক পথে চললে ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের কোনো সংঘাত হবে না। বরং ইসলামের সাথে বিজ্ঞানের মিলন ঘটবে। আর যখনই বিজ্ঞানের সাথে ইসলামের সংঘর্ষ হয়, বুঝতে হবে বিজ্ঞান সঠিক পথে চলেনি।
খতমে বুখারীর মূল ফজিলত হলো
আল্লাহর শুকরিয়া আদায়, হাদীস শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে সুন্নাহর অনুসরণ, বিশেষত মাদরাসাগুলোতে বুখারী শরীফ পড়া শেষ হলে দুআ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়, যা ঈমান ও তাওহীদকে জীবনের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে সাহায্য করে, যদিও এটি কোনো আবশ্যকীয় ইবাদত নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী ও কল্যাণকর প্রথা, যা বিদআত নয় যদি নিয়্যত বিশুদ্ধ থাকে।
খতমে বুখারীর ফজিলত ও তাৎপর্য:
আল্লাহর শুকরিয়া: সহীহ বুখারীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ হাদীস গ্রন্থ সম্পূর্ণ করতে পারা আল্লাহর বড় নেয়ামত, যার শুকরিয়া আদায় করা হয়।
হাদীসের গুরুত্ব: এটি মুমিনের জীবনে হাদীসের অপরিহার্যতা এবং কুরআন বোঝার জন্য হাদীসের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে।
ঈমান ও তাওহীদ: বুখারী শরীফ ঈমান দিয়ে শুরু হয়ে তাওহীদ দিয়ে শেষ হয়েছে, যা মানুষের জীবনকে ঈমান ও তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখার নির্দেশনা দেয়।
দুআ কবুল: খতমে বুখারীর সমাপ্তিতে করা দুআ কবুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ এটি একটি উত্তম কাজের সমাপ্তি।
বিদআত নয়: যদি এটিকে সুন্নাত বা আবশ্যকীয় মনে না করে, রিয়া (লোক দেখানো) ও দুনিয়াবী স্বার্থ ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা হয়, তবে এটি জায়েজ ও সওয়াবের কাজ।
দারস ও তালিম: এটি হাদীস শিক্ষা ও চর্চাকে উৎসাহিত করে এবং মুসলিম উম্মাহর মধ্যে হাদীসের জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।
সতর্কতা:
খতমে বুখারীকে বাধ্যতামূলক বা ‘নতুন ইবাদত’ মনে করা উচিত নয়, কারণ এর কোনো ভিত্তি নেই।
এতে কোনো ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন বা দুনিয়াবী স্বার্থের উদ্দেশ্য থাকলে তা অনুচিত।
সংক্ষেপে, খতমে বুখারী একটি সম্মানজনক প্রথা যা হাদীসের প্রতি ভালোবাসা ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যদি এর নিয়ত ও পদ্ধতি বিশুদ্ধ থাকে।
পরিশেষে জামিয়ার শাইখুল হাদীস সহ সকল মুহাদ্দিসিনগন কে আজীবন ক্বাল হাদ্দাসানা বলে বলে খাতীমা বিল খায়ের দান করুণ সেই তাউফিক কামনা করছি রবের দরবারে । আমিন