ইমিগ্রেশনে গোয়েন্দা রিপোর্ট ও অফলোডের নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে
এস এম আলম :
গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তার সরকারের দুর্নীতিবাজ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মন্ত্রী, এমপি, কতিপয় পুলিশ ও সেনাকর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী বিমান ও স্থলবন্দর দিয়ে অনেকটা নির্বিঘে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। বলা বাহুল্য, সে সময় বন্দরগুলোর ইমিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায় হাসিনা সরকারের অনুগতরাই বহাল তবিয়তে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে গুছিয়ে ওঠার আগেই ওইসব গোয়েন্দা সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তারা তাদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে। ধীরে ধীরে সরকার সক্ষমতা অর্জন করলেও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে এখনও স্বৈরাচার সরকারের সময়ের অনেক কর্মকর্তা রয়ে গেছে। সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদাবকস চৌধুরী এক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। স্বৈরাচার সরকারের লোকজন নিরাপদে দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারলেও এখন বিমানবন্দরগুলোতে সাধারণ ও নিরপরাধ লোকজনকে ‘গোয়েন্দা রিপোর্টে’র অজুহাতে বিদেশ যাওয়া আটকে দেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিমানবন্দরে এ ধরনের ঘটনা এখন অহরহ ঘটছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে কারা নিয়োজিত রয়েছে?
বিমান ও স্থলবন্দর দিয়ে বিদেশগামী যাত্রীদের ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তৎপরতা থাকা স্বাভাবিক। যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ ও আদালতের নিষেধাজ্ঞাসহ সরকারের তরফ থেকে বাধা থাকে, তাদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বিমান ও স্থলবন্দরে আটকে দেয়ার বিধান রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, হাসিনার পতনের পর অনেক সাধারণ ও নিরপরাধ বিশিষ্টজনদের গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে বিদেশ যাওয়া আটকে দেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের আটকে দেয়া বা হয়রানির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। সর্বশেষ শাহজালাল বিমাবন্দরে বিএনপি নেতা ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে বিদেশ যেতে বাধা দেয়া হয়। এর আগেও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীকে বাধা দেয়া এবং হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে। কেন ও কি কারণে যেতে দেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে বিমাবন্দরের কর্মকর্তাদের জবাব, আমাদের কিছু করার নেই, কম্পিউটারে গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, এসব গোয়েন্দা রিপোর্টের পেছনে কোন গোয়েন্দারা রয়েছে? কিসের ভিত্তিতে বলা নেই কওয়া নেই রিপোর্ট মেরে দিচ্ছে? যদি কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে তাদেরকে তো বিমানবন্দরে যাওয়ার আগেই জানিয়ে দেয়া যায়। তারা আইনগতভাবে অভিযোগের মোকাবেলা করতে পারে। তা না করে বিমানবন্দরে যাওয়ার পর তাদের জানানো হচ্ছে। এটা যে উদ্দেশ্যমূলক এবং হয়রানি করা, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। অথচ এসব বিমানবন্দর দিয়ে হাসিনার শাসনামলের খুনের অভিযোগে চিহ্নিত পুলিশ ও সেনাকর্মকর্তাসহ তার দোসরদের নির্বিঘেœ পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ এবং ভিডিওতে দেখা গেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে বিমানবন্দর দিয়ে পালিয়ে যেতে কীভাবে সহযোগিতা করা হয়েছে। বহুল আলোচিত ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ, সাবেক ডিআইজি কাহার অখন্দ, ডিজিএফআই-এর সাবেক মহাপরিচালকসহ অভিযুক্ত সেনাকর্মর্তারা নির্বিঘেœ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। কীভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ গভীর রাতে ব্যাংককে গিয়েছেন। এসব ঘটনা থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, বিমানবন্দরে নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে এখনও স্বৈরাচারের দোসর কর্মর্কর্তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে। তারা এখন নির্দোষ ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ব্লক বা গোয়েন্দা রিপোর্ট রয়েছে বলে বিদেশ যেতে বাধা দিচ্ছে। বিমান ও স্থলবন্দরগুলোতে সাধারণত পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা, এসবি, এনএসআই, এপিবিএন, এভিয়েশন সিকিউরিটি ইত্যাদি সংস্থা দায়িত্ব পালন করে। এসব সংস্থায় এখনো হাসিনার আমলের অনেক কর্মকর্তা রয়ে গেছে। তারাই এখন নানাভাবে নিরপরাধ যাত্রীদের হয়রানি করছে।
বিমানবন্দরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা নিষেধাজ্ঞা ছাড়া যাত্রী হয়রানির বিষয়টি উদ্বেগজনক। এটি ষড়যন্ত্রমূলকও বটে। এর দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এড়াতে পারেন না। তারা এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর করে তুলতে পারেননি। এ বাহিনীতে এখনো পতিত স্বৈরাচারের দোসর কর্মকর্তারা ঘাপটি মেরে বসে আছে। তারা নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানির পেছনে যে তাদের হাত রয়েছে, তাতে সন্দেহ নেই। এক্ষেত্রে যেসব যাত্রী গোয়েন্দা রিপোর্টের নামে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার ও বিদেশ যেতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, দায়িত্বরত গোয়েন্দা সংস্থাকে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে হবে। সত্যিকার অর্থে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ বা নিষেধাজ্ঞা থাকলে, তা তাদেরকে আগেভাগে জানিয়ে দিতে হবে, যাতে তারা আইনি সহযোগিতা নিতে পারেন। অমূলক, ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্যমূলক রিপোর্টের মাধ্যমে নিরপরাধ যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় যেসব ভুল করলে অফলোড হতে পারেন ।
ভাই অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, “ইমিগ্রেশন পার হইতে কি ভয় লাগে না?” আসলে ভয় না লাগলেও, টেনশন থাকেই! আর যদি আপনি কিছু ছোট ছোট ভুল করেন, তাহলেই বিপদ! অফলোড পর্যন্ত হতে পারেন!
আজকে রিয়েল কিছু ভুল শেয়ার করতেছি, যেগুলা অনেকেই করেন না জেনে!১. নিজের কথায় কনফিউশন থাকা!
ইমিগ্রেশন জিজ্ঞেস করলো কই যাচ্ছেন, আপনি বললেন এক কথা, পরে আবার আরেক কথা!
এইটা হইল সবচেয়ে বড় সন্দেহের কারণ। ২. রিটার্ন টিকিট না থাকা বা বুকিং ফেক হওয়া!
অনেকে শুধু নাম দেখায়, অথচ টিকিট একচুয়ালি নাই। ধরলে কিন্তু সাথে সাথেই অফলোড। ৩. হোটেল বুকিং না থাকা বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া!
ইমিগ্রেশন অনেক সময় সরাসরি বুকিং চেক করে, ভুল ইনফো ধরতে পারলে অফলোড দিবে।৪. ইনকাম সোর্স না থাকা বা প্রমাণ দিতে না পারা!
আপনি কি করেন, এই প্রশ্নে যদি ঝুলে যান বা কিছু দেখাতে না পারেন, সমস্যা হবে।৫. বেশি নার্ভাস হওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ করা:
এইটা দেখলে তারা আরো ডিটেইলে জিজ্ঞেস করে, কারণ সন্দেহ হয়।
তাহলে কী করবেন?
অবশ্যাই সত্য কথা বলবেন, সব ডকুমেন্টস ঠিকঠাক রাখবেন, মনে সাহস রাখবেন, এবং যেই দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের কিছু জায়গার নাম জেনে যাবেন ঢ়াতে জিজ্ঞেস করলে বলতে পারেন!
ইমিগ্রেশন অনেকটাই মন-মানসিকতার খেলা, আপনি যদি কনফিডেন্স নিয়ে উত্তর দেন আর সবকিছু ঠিক থাকে যে, তাহলে ইনশাআল্লাহ কোনো সমস্যা হবে না।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতেছি।