শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম :
জাতীয় স্মৃতিসৌধে আশুলিয়া থানা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত আওয়ামী প্রতিহিংসার শিকার তিতাস গ্যাস কর্মচারী শ্রমিক দল নেতা চাকরিচ্যুত শওকত ইমামের মানবেতর জীবনযাপন। বাকেরগঞ্জে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকের নিরাপত্তা ও মালিকানার সংকট পঞ্চগড়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রম শক্তিশালী করতে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময় নির্মাণাধীন মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের ছাঁদ ধসে ক্ষয়ক্ষতি ! কন্ট্রাকটর ও প্রকৌশলীর গাফিলতির অভিযোগ !! প্রেমের অনন্য উপাখ্যান: কাপাসিয়ায় মালয়েশিয়ান তরুণী হাফিজা ও রাকিবের বিয়েতে নায়িকা প্রিয়াংকা ফোরকান মাস্টারকে ঘিরে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সত্য, মানবিকতা ও সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে এলাকাবাসীর আহ্বান গংগাচড়ায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কার্যকরী পরিষদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত মানবিক সহায়তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জি.আর চাল বিতরণ কোরবানির ঈদে পশুর সংকট নেই, ভারতীয় গরু ঠেকাতে কঠোর নজরদারি: সাভারে মন্ত্রী আমিন উর রশিদ আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন আমীরসহ তিন মরহুমের জানাজায় শোকাবহ পরিবেশ কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রে মিকাইল বিশ্বাসকে ঠেকানো যাবে না বললেন এলাকার সাধারণ জনগণ গাজীপুরে জুতা কারখানায় আগুন ভোলায় ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক, ৩ মাস ৭দিনের কারাদণ্ড। আত্রাইয়ে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহের শুভ উদ্বোধন মুরাদনগরে মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ আটক ২ গাজীপুরে টিকটক করতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল ২ এসএসসি পরীক্ষার্থীর গাজীপুরে আলোচিত ৫ খুন: সেই ফোরকানের মরদেহ উদ্ধার পদ্মা নদীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল বিতর অনিয়মে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা গাজীপুরের তুরাগ নদীতে তলিয়ে যাওয়া বন্ধুকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল দুই কিশোরের মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত নূরনবীকে দেখতে জনতার ভিড়! বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোসলেহ, সম্পাদক শামীমা পারভীন রাণীশংকৈলে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, ধর্ষক কিশোর গ্রেপ্তার প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের আস্থাভাজন ছাত্রনেতা তানভীর অসুস্থ, দোয়া কামনা ২০৬ পিস ইয়াবাসহ ঢাকা জেলা ডিবি (উত্তর)-এর পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫ মাদক ব্যবসায়ী সাতকানিয়ায় ২স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে আটক-৪!ভিকটিমদেরকে উদ্ধার। আটিগ্রাম ভূমি অফিসের ছত্রছায়ায় চলছে অবৈধ ড্রেজার ও মাটি বাণিজ্য কৃষিজমি ধ্বংসের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের
জরুরী নোটিশ :
জরুরী নোটিশ এবং সতর্কবার্তা ""গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক  মিডিয়া ভুক্ত পত্রিকা দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।  কিছু কুচুক্তি মহল বিভিন্ন গণমাধ্যমের আইডি কার্ড নকল করে বিভিন্ন প্রকার অপরাধে জড়াচ্ছে কিছুদিন পর পর পত্রিকার এসব খবরে আমরা বিভ্রান্ত। এরকম বেশ কয়েকজন অপরাধী দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার আইডি কার্ড নকল করেছে এমন প্রমাণিত হওয়াতে আমরা তাদের বিরুদ্ধে  তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। এবং সংবাদ প্রকাশ করে এসব অপরাধীদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই বলে আমরা ঘোষণা দিয়েছি।  সেই সাথে আমরা আমাদের প্রদত্ত বিগত দিনের সকল আইডি কার্ড পরিবর্তন করে স্ক্যানিং কোড সিস্টেম করে নতুন আঙ্গিকে আইডি কার্ড তৈরি করেছি।  দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশে কর্তব্যরত সকল সাংবাদিকদের কে সম্মানের সাথে জানাচ্ছি আপনারা  আপনাদের পুরনো আইডি কার্ড পত্রিকা অফিসে জমা দিয়ে সেই সাথে নতুন করে ভোটার আইডি কার্ড এবং  আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদের সত্যায়িত ফটোকপি সহ জমা দিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন আইডি কার্ড সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল। পত্রিকা কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশ যারা অমান্য করবে তাদেরকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ বহিষ্কৃত বলে গণ্য করবেন। আপনাদের জ্ঞাতার্থে আরও জানাচ্ছি যে  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশক্রমে সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মান নির্ণয় সহ সাংবাদিকদের ডাটাবেজ তৈরি করছেন, মাননীয় সাবেক বিচারপতি প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ইতিমধ্যে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। পুনরায় আপনার ভোটার আইডি কার্ড এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা অভিজ্ঞতার সনদ সকল কিছু সত্যায়িত করে নতুনভাবে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার   কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়ে পুরনো কার্ডটি ফেরত দিয়ে নতুন আইডি কার্ড নেওয়ার জন্য নির্দেশ রইল।  আদেশক্রমে --আব্দুল্লাহ আল মামুন--প্রকাশক ও সম্পাদক--দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ ।

কমলগঞ্জে খেজুরের রস–গুড়ের ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে

আব্দুল হামিদ / ২৩৫ Time View
Update : শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

একসময় শীত মানেই মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ভোরবেলা পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ত খেজুরের রসের মিষ্টি সুবাস। কুয়াশা ভেদ করে উঠত গরম রসের হাঁড়ির ধোঁয়া। রাস্তাঘাটে মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত জনপ্রিয় স্লোগান খেজুরের রস, খেজুরের গুড়স্মৃতিতে রইল ভরপুর।

কিন্তু ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য। খেজুর গাছ কমেছে, রস সংগ্রহের ব্যবসায়ীরা পেশা বদলে ফেলেছে, আর শীতের সকাল থেকে মুছে যাচ্ছে মিষ্টি ঘ্রাণের সেই স্মৃতি।

গাছ নেই, নেই রসের হাঁড়িতেও টনটন শব্দ

কমলগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় খেজুর গাছ এখন বিরল। একসময় মেঠোপথের দু’ধারে সারি সারি গাছ ছিল, এখন সেখানে পাকা রাস্তা, দালান, বাণিজ্যিক স্থাপনা।

লংশুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মাসুক মিয়া স্মৃতিচারণ করে বলেন,

ছোটবেলায় বাবার হাত ধরে ভোরে রস আনতে যেতাম। এখন গ্রামের রাস্তায় একটাও খেজুর গাছ চোখে পড়ে না। আধুনিকতা সব গিলে খাচ্ছে।

আগে প্রতিদিন সকালে হাঁড়ি হাতে রস কিনতে যেতেন স্থানীয়রা। এখন রস পেতে হলে আগেভাগে অর্ডার দিতে হয়, দামও আকাশছোঁয়া।

‘চার গাছ থেকে দুই হাঁড়ি’ থেকে এখন ‘চার গাছেও এক হাঁড়ি নয়’

কমলগঞ্জের নয়টি ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, খেজুরের রস সংগ্রহকারী মাত্র একজন প্রবীণ ব্যবসায়ী এখনও এই পেশায় আছেন। ৩৫ বছরের অভিজ্ঞ মশাইদ আলী বলেন,
আগে রাতেই চারটা গাছ থেকে দুই হাঁড়ি রস উঠত। এখন তিন–চারটা গাছ মিলে এক হাঁড়িও হয় না। গাছ কমে গেছে, রসও কমেছে।

তিনি আরো জানান, এখন এক হাঁড়ি কাঁচা রসের দাম ৬০০–৭০০ টাকা হলেও পাওয়া মুশকিল। পাশাপাশি চুরি–ছিনতাইও বেড়েছে
অনেক সময় রাতে ছেলেপেলে হাঁড়ি নামিয়ে নিয়ে যায়। মানুষও আগের মতো রস কিনতে চায় না। তাই রস দিয়েই গুড় বানাই। খাঁটি গুড় বিক্রি করলে কিছুটা লাভ থাকে।

গাছি নেই, ঐতিহ্যও বিপন্ন কৃষিশ্রমিকের বদলে গাছিরা এখন রাজমিস্ত্রি, গাড়িচালক বা বিদেশগামী শ্রমিক। গাছে উঠে রস তোলার কঠোর পরিশ্রমে তরুণদের আর আগ্রহ নেই।

মাত্র ১০ বছরে ৮০ হাজার থেকে কমে ২ হাজার খেজুর গাছ

মৌলভীবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে
দশ বছর আগে জেলায় খেজুর গাছ ছিল প্রায় ৮০ হাজার, বর্তমানে রয়েছে মাত্র ২ হাজারটি।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন বলেন,
“উন্নয়ন, ভূমির পরিবর্তন ও জলবায়ু প্রভাবের কারণে খেজুর গাছ কমে গেছে। তবে নতুন করে খেজুর গাছ রোপণের প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সচেতনতা ও বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে পারলে ঐতিহ্য আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”

জলবায়ু পরিবর্তন ও নিপা ভাইরাসের শঙ্কায় মানুষ রস এড়িয়ে চলছে

রসের স্বাদ ও ঘ্রাণ আগের মতো নেই বলেও জানান স্থানীয়রা। গাছ কমার পাশাপাশি রসের পরিমাণও কমে গেছে।

বাজারে খাঁটি গুড়ের সংকট, দামও চড়া

কমলগঞ্জের আদমপুর, ভানুগাছ, মুন্সিবাজার ও শমসেরনগর বাজারে খাঁটি খেজুর গুড় এখন প্রায় অদৃশ্য। বাজারে খাঁটি খেজুর গুড় ৬০০–৭০০ টাকা কেজি
সাধারণ গুড়: ২০০–৩০০ টাকা কেজি
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কমে যাওয়ায় খাঁটি গুড় এখন “সোনার দামে” বিক্রি হয়।

হারানো ঐতিহ্যের স্বপ্ন

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বাড়লে আবারও ফিরতে পারে সেই সুবাসিত সকাল।

একদিন আবার শীতের সকালে বাতাসে ভেসে আসবে খেজুরের রস–গুড়ের মিষ্টি গন্ধ ফিরবে কমলগঞ্জের হারানো ঐতিহ্য


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *