মাছুম কাজী :
রাজধানী ঢাকার অন্যতম স্থান উত্তরা। ঢাকা-১৮ আসনের এই বিস্তৃত ব্যস্ততম এলাকা এখন মাদকের আখড়া নামে পরিচিত। এসব আলিশান এলাকায় লোক চক্ষুর আড়ালে চলে মাদক বেচাকেনা। উত্তরখান দক্ষিণখান তুরাগ খিলক্ষেত উত্তরা পশ্চিম পূর্ব ভাটারার একটি অংশ সহ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে মাদক ডিলাররা। রাজধানীর অভিজাত মডেল টাউন এলাকা হিসেবে পরিচিত উত্তরা এবং তুরাগ।
এ এলাকার মোট জনসংখ্যা ৫ লাখেরও বেশি। আয়তন সাড়ে ১২ বর্গকিলোমিটার। ৮টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাড়াও রয়েছে ৪৩টি ব্যাংকের শাখা, দুটি পোস্ট অফিস, ২২টি কলেজ, ২৬টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। রাজধানীর অভিজাত এলাকা হিসেবে উত্তরা ও তুরাগে পরিচিতি থাকলেও খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। শুধু তাই নয়, উত্তরা এবং তুরাগ এলাকায় রয়েছে মাদকের বেশ কিছু চিহ্নিত স্পট। তুরাগে ১০০ জনেরও বেশি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। অভিযোগ আছে, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের অধিকাংশকে নির্বিঘ্নে ব্যবসার সুযোগও করে দিচ্ছে পুলিশ। খিলক্ষেত আবাসিক এলাকায় চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
১৭ নং রোডের ১২ নম্বর বাড়ীর ২য় তলায় থাকেন একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। যদিও তিনি সবাইকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দেন। কিন্তু তার কার্যক্রমে সেটা মনে হয় না। তিনি ঐ বাসার আবাসিক ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে নিজে একটি রুমে পরিবার নিয়ে থাকেন এবং বাকী রুম গুলোকে ডেকারেশন করে বিভিন্ন মানুষকে সাবলেট অফিস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। কেউ আসছে, কেউ যাচ্ছে, কে মাদক ব্যবসায়ী, কে অসামাজিক কার্যকলাপের মাস্টার? বুঝা বড় মসকিল। এভাবে সম্পূর্ণ খিলক্ষেত নিকুঞ্জ জুড়ে চলছে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক ব্যবসা। এর কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা অনায়াসেই নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখতে পারে।
জানা যায়, রাজধানীর তুরাগ যাত্রাবাড়ী এলাকার জামাল কারী, সায়েম, বুলবুল, পাকুরিয়া এলাকায় নাড়া সুমন, রুবেল ওরফে পাগলা রুবেল, আল আমিন, সুমন, অহিদুল ও অহিদুলের বউ আরফিন, তালটেক এলাকার জুয়েল এবং জুয়েলের বউ সালমা, কামারপাড়া এলাকার লাকী ওরফে ফেন্সি লাকী, আহালিয়া এলাকার নাগর আলির ছেলে শফিক, সামাদ, রতন (ওরফে খুনি রতন) শফিকের বউ মিনা, মনিরের ছেলে রনি, আঃ হাই, শরিফ, রুমি হানিফ আলি গাজা ব্যবসায়ী জামাল, মান্নান, সোহেল, চান মিয়া, ১২নং সেক্টর বালুর মাঠ সেকারিন ও নাছির,বাউনিয়া এলাকা মিনাল, শ্যামল, শিল্পী, আরিফ, রুবেল, শাজাহান ওরফে হাত কাটা শাজাহান, ৬ তলা এলাকার লালচাঁন, বটতলা এলাকার মালা ওরফে কবিতা, সাইফুলের ভাতিজা পারভেজ, উলুদাহা এলাকার বিশু, রায়হান, শাওন, বিল্লাল, গাজা সুলতান, বাউনিয়া এলাকার জয়নাল, তার দুই ছেলে নাজমুল, সোহান, জয়নালের ভাই আয়নাল, রমজান, খলিল, এবং জয়নালের ছোট বোন, বালুর মাঠ, চন্ডালভোগ, নলভোগ, বাউনিয়া, পাকুরিয়া, কালিবাড়ী, এলাকাতে চলছে এসব ব্যবসা।
দামি গাড়ি ব্যবহার করে ভ্রাম্যমাণ মাদকের ডিলাররা এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে ইয়াবা এবং মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলে অনেকেই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করে চালাচ্ছে মাদক ব্যবসা। পুলিশের পরিসংখ্যান তথ্যেও জানায়, এলাকায় মাদকের আখড়া বেড়েছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ কি এ্যাকশন নিবে? যদি পুলিশের গাড়ীতে করে মালামাল পৌছে দেয়া হয়। ওনারা চায় আমাদের ব্যবস্যা ভালো চলুক।
তাহলে ওনারা হপ্তাটা বেশী পাবেন। আমার এখান থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় বিশ হাজার টাকা নেয় পুলিশ। এলাকার সচেতন কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে কথা বললে, তারা জানায় উত্তরা, তুরাগ, উত্তরখান, দক্ষিনখান, বিমানবন্দর এলাকার অলি-গলিতে সন্ধ্যার পরই বসে মাদকের হাটবাজার। পুলিশ যদি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতো তাহলে এগুলোর অবাধ বিচরণ সম্ভব হতনা। যদিও আগের চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা গুলোর মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ধরতে সোচ্চার হলেও ৫ই আগস্টের পর নতুন করে মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের রুট পরিবর্তন করে ভিন্ন আঙ্গিকে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই এলাকার পার্শ্ববর্তীর তুরাগ নদী ও বৃহত্তর টঙ্গী বাজার হওয়াতে মাদকের আদান প্রদানে সুবিধাটা বেশি বলে মাদক ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না।