শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
রাজধানীর মহাসড়কে নিষিদ্ধ অটোরিকশার দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। যাত্রী পরিবহনের সহজ মাধ্যম হলেও মহাসড়কে এসব যানবাহন নিষিদ্ধ। ধীরগতির এসব অটোরিকশা মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিপজ্জনকভাবে উল্টো পথে চলাচল করছে এসব যানবাহন। রাজধানীর মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের ঝুঁকিপূর্ণ অপর নাম ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। একদিকে সড়কে যানযট সৃষ্টি আর অন্যদিকে জনগণের চরম ভোগান্তি। দেশের অধিকাংশ রাস্তা এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের দখলে চলে গেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকার রাস্তায় এসব যানের দাপট বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রায় সব সড়কে তাদের অবাধ বিচরণ। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতি মানছেন না ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা। তারা ইচ্ছেমতো লেন পরিবর্তন করছেন, হঠাৎ ব্রেক কষছেন, উল্টোপথে চলছেন। এসব রিকশার কারণে প্রধান সড়কগুলোর শৃঙ্খলাও প্রায় হারিয়ে গেছে।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিনিয়ত ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়াই চালকরা এসব রিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেই বেপরোয়া আচরণ করছেন। কোথাও কোথাও চালকদের অতিমাত্রার দৌরাত্ম্য উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সচেতন নাগরিকদের মনে। অন্যদিকে সড়কের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের ওপরে তারাও বেশ রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন। যেন পুরো সড়ক রিকশাচালকদের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন তারা। অনেক স্থানে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচলে বাধা দেওয়ায় মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এবিষয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় আইন আছে। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। সড়কে অঘোষিত ‘রিকশার রাজত্ব’ চলছে। ব্যাটারিচালিত রিকশার লাগামহীন চলাচলে বিপর্যস্ত নগরজীবন। এসব রিকশার চালক পুলিশের নির্দেশনা মানেন না, ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা করেন না। এদের থামানোর চেষ্টা করলেই দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ চিত্র। রিকশাচালকরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালাচ্ছেন। এতকিছুর পরও অদৃশ্য কারণে প্রশাসনে নীরবতা দেখা যাচ্ছে। রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচলের এই বিশৃঙ্খল অবস্থা পৃথিবীর আর কোনো দেশে রয়েছে কি না,জাতির জানা নেই। এসব যদি রাজধানীতে চলে তার নির্দিষ্ট একটা গাইডলাইন রাষ্ট্র থেকে ঠিক করে দেওয়া উচিত। বর্তমানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যেভাবে চলছে, সেটি একটি ভয়ঙ্কর প্রবণতা। এখনই তা থামানো না গেলে ভবিষ্যতে তা আরও ভয়ংকর অবস্থা ধারন করবে। যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ‘ট্রাফিক সিস্টেম’ যেভাবে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে তা আর ঠিক করা যাবে না। এসব চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। নেই কোনো প্রশিক্ষণ। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ ছাড়া কীভাবে এত চালক ব্যস্ততম সড়কে এবং শহরে অবাধে চলাচল করেন, বিষয়টা বেশ উদ্বেগজনক! যে কেউ চাইলেই এসব যানবাহন ক্রয় করে রুজিরোজগারের জন্য রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন। সাধারণ মানুষও এসব যানবাহনে উঠছেন। এতে মানুষের দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা সব সময় থেকেই যাচ্ছে।