গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে জনজীবনে স্বস্তির এক নির্মল পরশ বয়ে আনল বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি মহৎ উদ্যোগ। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় এবং গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৫৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে এলাকাবাসীর জন্য স্থাপন করা হয়েছে বিশুদ্ধ পানির একটি স্থায়ী উৎস যা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় দেওড়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্কটি প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকে। এখানে জগিং ও শরীরচর্চায় অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও তরুণরা। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মাঠে খেলাধুলায় মেতে ওঠে কিশোররা। আশপাশের দোকানদার, পথচারী এবং রিকশাচালকদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল একটি নিত্যদিনের দুর্ভোগ। সেই চাহিদাকে উপলব্ধি করে গড়ে তোলা হয়েছে এই পানির উৎস, যা এখন সবার জন্য সহজলভ্য এক আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিমত, জনস্বার্থে এমন উদ্যোগ কেবল প্রশংসনীয়ই নয়, বরং নাগরিক জীবনের মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং নগর জীবনের মানোন্নয়নে আরও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ৬ মে ২০২৬, বুধবার বিকেলে বড় দেওড়া, মিত্তি বাড়ি রোড সংলগ্ন মুক্তিযোদ্ধা শিশু পার্কে (পানির পাম্পের পাশে) সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য এই বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি পবিত্র দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়, যেখানে উপস্থিত সকলেই এলাকার কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পাইলট স্কুল এন্ড গার্লস কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক আঃ সামাদ হুজুর, ৫৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, বৃহত্তর ফরিদপুর জনকল্যাণ সমিতির ৫৩ নং ওয়ার্ডের সভাপতি বদিরুজ্জামান, ৫৪ নং ওয়ার্ড সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিলন খন্দকার, নগর বাউল সুমন, সাংবাদিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অলিদুর রহমান অলি, সাংবাদিক আক্তার হোসেন ঢালী, ৫৩ নং ওয়ার্ড যুবদলের নেতা মোঃ রিয়াদ হোসেন, সমাজকর্মী কাজী কামরুল হাসান, ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া, যুবদল নেতা শায়েদ হোসেন লেবু এবং মাহবুব সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী বলেন, মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলো নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ছোট্ট এই উদ্যোগ গ্রহণ করতে পেরে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। ভবিষ্যতেও এলাকাবাসীর কল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা থাকবে।
মানবকল্যাণে নিবেদিত এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণ করে একটি ছোট পদক্ষেপও সমাজে বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছিলাম। বিশেষ করে সকালে ব্যায়াম করতে আসা মানুষ, খেলাধুলায় ব্যস্ত কিশোররা, পথচারী ও রিকশাচালকদের জন্য এটি ছিল খুবই কষ্টের বিষয়। এখন এই পানির ব্যবস্থার ফলে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। এটি নিঃসন্দেহে একটি মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও এমন জনকল্যাণমূলক কাজ অব্যাহত থাকবে।