টাঙ্গাইলে ম্যানেজারের প্রতারণার শিকারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে মনজেল হোসেন নামক এক ব্যবসায়ী। সরল বিশ^াসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সকল দায়িত্ব নিয়ে ম্যানেজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে অন্যদিকে অন্য ব্যবসায়ির সাথে যোগসাজসে চেক দিয়েছে মর্মে মামলার ভয় দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পায়তারা করছে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওই ব্যবসায়ী।
জানাযায়, জেলার নাগরপুর উপজেলার ভূমরিয়া গ্রামের অটো রাইচ মিল ব্যবসায়ী মনজেল হোসেন দীর্ঘ দিন যাব সুনামের সহিত ব্যবসা করে আসছিল। সে এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রায় একযুগ পূর্বে সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালী উপজেলার চর জাজুরিয়া গ্রামের মুছা ব্যাপারীর ছেলে বাবর আলীকে মাসিক বেতন ভুক্ত ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেন মনজেল হোসেন। দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করায় সরল বিশ^াসে ব্যবসায়ীক লেনদেনের জন্য স্বাক্ষরিত সকল ব্যাংকের চেক বইসহ, গুরুত্বপূর্ন কাগজপত্রাদী তার কাছে রক্ষিত রাখেন। প্রয়োজন মতো ম্যানেজার বাবর আলীর চেক দিয়ে টাকা লেনদেন করতো।
এ সুযোগে ম্যানেজার বাবর আলী কৌশলে তার বাড়ীর পশির্^ শাহজান নামক এক ব্যক্তিকে ব্যবসায় যুক্ত করে তার সাথে লেনদেন শুরু করে। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শাজাহানের ছেলেকেও ব্যবসায় যুক্ত করে। এরপর ম্যানেজার বাবর আলী, ব্যবসায়ী শাজাহান ও তার ছেলের যোগসাজসে বিভিন্ন কৌশলে অর্থ আতœসাত শুরু করে। ফলে অনবরত অর্থ তছরপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক অর্থ সংকটে পড়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পড়েন প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধীকারি মনজেল হোসেন। অর্থ সংকট, ব্যবসায় ক্ষতির কারণের জন্য ম্যানেজারকে হিসাব দিতে বললে, নানা তালবাহানায় কালক্ষেপণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানে ১০টি চেক বই, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও সকল দেনাপাওনার হিসাব না দিয়ে চাকুরি থেকে চলে যায় বাবর আলী। এতে আরো ব্যবসায় ধ্বস নেমে আসে। এর প্রেক্ষিতে মনজেল হোসেন ম্যানেজার বাবর আলীর বাড়ীতে গিয়ে চেক বইসহ অন্যান্য কাগজপত্র চাইলে প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষ হতে সকল কাগজপত্র হারিয়ে গেছে বলে সাব জানিয়ে দেয়।
অন্যদিকে গত ৮-১০-২০২৫ তারিখে ম্যানেজার বাবরের বাহামভুক্ত ব্যবসায়ী শাজাহান ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি চেক দিয়ে ৪২ লক্ষ টাকা উত্তোলণের জন্য জমা দেন সোনালী ব্যাংক, চৌহালির, খাষ কাউলিয়া শাখায়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক বহনকারির আচরণ ও টাকার পরিমাণে সন্দেহ হওয়ায় তাদেরকে টাকা প্রদান না করে একাউন্টদারি মনজেল হোসেনকে সংবাদ দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্ঠি করে। এ ছাড়াও ম্যানেজার বাবর আলীর কাছে ১০০পাতার ১টি, ৫০পাতার ৫টি, ৭৪ পাতার ১টি, ৪৯ পাতার ১টি, ৩৫পাতার ১টি, এবং ১০ পাতার ২টি চেক বই রয়েছে বলে মনজেল হোসেনের দাবি। এ বিষয়ে গত ১৩/৯/২০২৫ তারিখে এসব চেক উদ্ধারের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধি ৯৮ ধারায় সিরাজগঞ্জ বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করেছে মনজিল হোসেন।
এ বিষয়ে ম্যানেজার বাবর আলী ও শাজাহান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ভাই ভাই অটো রাইচ মিলের স্বত্তাধিকারি মনজেল হোসেন জানান, আমি সরল বিশ^াসে বাবর আলী কে ম্যানেজার নিয়োগ দিয়েছিলাম। আমার সকল ব্যাংকের চেক স্বাক্ষর করে ম্যানেজারকে দিয়ে রাখতাম যা প্রয়োজন মতো টাকা উত্তোলন করতো। কিন্তু সে আমার বিশ^াসকে পুঁজি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া আমার অগচরে আমার নামে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ করেও লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে যা এখন সংবাদ পাচ্ছি। আমার প্রায় তিন শতাধিক পাতাসহ ১০টি চেক বই বাবর আলী ও শাজাহানের যোগসাজসে হাতিয়ে নিয়েছে। যার মধ্যে অনেক চেক আমার স্বাক্ষর করা ছিল। এসব চেক উদ্ধারের জন্য মামলা করেছি, কর্তৃপক্ষের নিকট আমার দাবি দ্রæত চেকগুলো উদ্ধার করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।#