দেশের সড়ক ও মহাসড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান।
দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও প্রকৌশল জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সওজের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে তাঁর নতুন দায়িত্বকে ঘিরে।
সওজের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার—সবকিছুর সঙ্গে এই দায়িত্ব সরাসরি সম্পৃক্ত।
অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা
প্রকৌশল খাতে দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা রয়েছে মো. মনিরুজ্জামানের। সড়ক উন্নয়ন, পরিকল্পনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নতুন দায়িত্বে তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে চলমান প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় গুরুত্ব প্রত্যাশিত
সওজের আওতায় প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থে বিভিন্ন উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়। ফলে দরপত্র প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বিল পরিশোধ এবং কাজের মান যাচাই—প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে এসব ক্ষেত্রে নিয়মনীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। যোগ্যতা ও কারিগরি দক্ষতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি অনিয়মের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সওজের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে।
নিরাপদ সড়ক ও টেকসই অবকাঠামোর প্রত্যাশা
দেশের অর্থনীতি ও জনজীবনে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্ব অপরিসীম। পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই সওজের কার্যক্রমের সরাসরি প্রভাব রয়েছে।
তাই নতুন প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে মো. মনিরুজ্জামানের কাছে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সড়ক ও মহাসড়ক ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, টেকসই ও আধুনিক করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষ করে প্রকল্পের গুণগত মান, সময়ানুবর্তিতা, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে সওজের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন দায়িত্বে মো. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রমে আরও গতি, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে,এমন প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের।