(নগরবাসীর সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য)
রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস ও প্রতিদিনের নাগরিক জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই সিটি করপোরেশনের সামনে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। জলাবদ্ধতা, মশক নিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও ফুটপাত দখল, যানজট, অবৈধ স্থাপনা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ডিএনসিসিকে প্রতিনিয়ত কাজ করতে হচ্ছে।
এসব বিষয়ে দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ডিএনসিসির প্রশাসক তুলে ধরেছেন তাঁর কর্মপরিকল্পনা, নগরবাসীর প্রত্যাশা পূরণে নেওয়া উদ্যোগ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা।
প্রশ্ন: দায়িত্ব গ্রহণের পর আপনার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো বলে মনে হচ্ছে?
প্রশাসক: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একটি বিশাল এলাকা। এখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। নাগরিকদের প্রত্যাশাও অনেক। তাই দায়িত্ব গ্রহণের পর আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে নাগরিক সেবা আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়ক ও ফুটপাত ব্যবস্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।
প্রশ্ন: বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নগরবাসীর বড় দুর্ভোগের কারণ। এ বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?
প্রশাসক: জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোথায় পানি জমছে, কেন জমছে এবং দ্রুত কীভাবে পানি নিষ্কাশন করা যায়—এসব বিষয় চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি খাল ও ড্রেনের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: মশক নিধন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের পরিকল্পনা কী?
প্রশাসক: মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। শুধু ওষুধ ছিটানো নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। সিটি করপোরেশন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
প্রশ্ন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে কী করছেন?
প্রশাসক: আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে আমরা কাজ করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার প্রবণতা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। নাগরিকদের সহযোগিতাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন: ফুটপাত দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
প্রশাসক: ফুটপাত মূলত পথচারীদের জন্য। নগরবাসীর চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে উচ্ছেদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো মানবিকভাবে বিবেচনা করে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
প্রশ্ন: নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে?
প্রশাসক: নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। নাগরিকরা যাতে সহজে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং সেই অভিযোগের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নাগরিকবান্ধব মনোভাব নিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন: ডিএনসিসিকে আরও আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
প্রশাসক: আমাদের লক্ষ্য একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, সবুজ ও নাগরিকবান্ধব ঢাকা গড়ে তোলা। এজন্য অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, নাগরিক সেবা ডিজিটালাইজেশন এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে ডিএনসিসিকে আরও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রশ্ন: নগরবাসীর প্রতি আপনার বার্তা কী?
প্রশাসক: সিটি করপোরেশন একা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। নগরবাসী আমাদের সবচেয়ে বড় অংশীদার। সবাই যদি আইন মেনে চলেন, যত্রতত্র ময়লা না ফেলেন, জলাধার ও ড্রেন দখল না করেন এবং সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন, তাহলে আমরা আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তুলতে পারব।
শেষ কথা:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবা আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়—তা সময়ই বলে দেবে। তবে নগরবাসীর প্রত্যাশা একটাই—সেবা যেন দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্ত হয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন হয়ে উঠুক একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আধুনিক