রাজধানীর উত্তরাংশের বিশাল নগর এলাকার নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নগর শৃঙ্খলা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তাঁকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নগরবাসীর বিভিন্ন সমস্যা ও নাগরিক সেবার বিষয়গুলো সরেজমিনে দেখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, সবুজায়ন এবং নগর শৃঙ্খলা নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
বিশেষ করে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রশাসক মিল্টন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মাধ্যমে একটি বিশাল মহানগরকে সম্পূর্ণ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়; নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
নগর প্রশাসনে মাঠপর্যায়ে সরেজমিনে সমস্যা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটের ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের সময় তাঁকে সরেজমিনে পরিস্থিতি তদারকি করতে দেখা যায়।
দিয়াবাড়িতে নির্ধারিত সীমানার বাইরে সড়কে পশু রাখার ঘটনা নজরে এলে তিনি সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। যানবাহন চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সড়ক উন্মুক্ত রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি। এতে নগর ব্যবস্থাপনায় শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনা নয়, বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাও সামনে আসে।
ঢাকা উত্তর সিটির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষা। জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, দখল ও নগরায়ণের কারণে এসব সমস্যা দিন দিন জটিল হচ্ছে। এ অবস্থায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন প্রশাসক।
সবুজায়নের প্রসঙ্গেও তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে নাগরিক অংশগ্রহণ। বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে কেবল সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচি হিসেবে না দেখে নগরবাসীর সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মতো একটি বৃহৎ নগর প্রশাসন পরিচালনা করা সহজ নয়। বিপুল জনসংখ্যা, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, সড়কের শৃঙ্খলা, অবৈধ দখল, পরিবেশ দূষণ ও নাগরিক সেবার নানা সীমাবদ্ধতা প্রতিনিয়ত প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশাসক হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে মাঠপর্যায়ের তৎপরতাকে দীর্ঘমেয়াদি ও দৃশ্যমান নাগরিক সেবায় রূপ দেওয়া। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নগর ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের মনোযোগের বিষয়টি তুলে ধরছে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ, সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক সেবায় চলমান উদ্যোগগুলো আরও গতিশীল হবে এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি এলাকায় এর বাস্তব সুফল পৌঁছে যাবে। মাঠপর্যায়ের তৎপরতা, জবাবদিহি ও নাগরিক অংশগ্রহণের সমন্বয় ঘটাতে পারলে একটি আরও পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলার পথে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।