ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মরদেহ দুই দিন পর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি খাল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে উপজেলার সাতৈর ও মহিশালার মাঝামাঝি আরাজি পাইকোহাটি পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের সামনে পাশের খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত হাফিজুর রহমান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পিংগলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট সকালে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ফাইনাল পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বোয়ালমারীর উদ্দেশে রওনা হন হাফিজুর। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না মেলায় বিষয়টি জানানো হয় স্বজনদের পক্ষ থেকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সাতৈর ও মহিশালার মাঝামাঝি এলাকায় আরাজি পাইকোহাটি পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি পাশের খাদে পড়ে যায়। ওই সময় হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও বুধবার সকালে স্থানীয়রা কাদার মধ্যে পানিতে ভাসমান অবস্থায় একটি মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। পরে মরদেহের গলায় থাকা আইডি কার্ড দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। আইডি কার্ডে হাফিজুর রহমানের নাম এবং বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় উল্লেখ ছিল।
নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর হাফিজুরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার, সহপাঠী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে।