1. amarpranerbd@gmail.com : news :
  2. amarpranerbangladesh@gmail.com : PRANER BD REPORTER : PRANER BD REPORTER
  3. editor.amarpranerbd.official@gmail.com : Newsdesk :
শিরোনাম :
সরফভাটা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে ঈদে মিলাদুন্নবী ও গুণীজন সংবর্ধনা কবে হবে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত আজ থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে ফিরছেন জেলে-বাওয়ালিরা কেশবপুরে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিট দায়িত্বশীল সম্মেলন ২০২৬ অনুষ্ঠিত সওজ’র গাফলতি চরমে,অকেজো হচ্ছে কোটি টাকার ফেরি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চৈতী কম্পোজিট  লিঃকে ৭৫ লক্ষ ৪ হাজার টাকা জরিমান ধার্য করা হয়  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মোহনগঞ্জে পতাকা উত্তোলন ও রেলিতে এমপি বাবর- নবনির্মিত প্রশাসনিক ভবন উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম – মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ৪ নং পৈল ইউনিয়ন বাসীকে ভালবাসা ও শুভেচ্ছা জানালেন ফ্রান্স প্রবাসী ৪ নং পৈল ইউনিয়নের  চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ সোহেল রানা ভাই ।  শিবচরে গণউন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রতারণায় নিঃস্ব নিম্নআয়ের মানুষ মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন বিএনপি’র ৪৮- তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে শীতলক্ষ্যা নদীতে মৎস্য অবমুক্ত করন।

দেশে আদম ব্যবসার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে মানুষ ও পরিবার, প্রশাসন নীরব

শের ই গুল
  • Update Time : Sunday, June 14, 2026,
  • 61 Time View

চাকচিক্য অফিস নিরিবিলি এলাকায় কোন ঝামেলা নেই যেন ফাঁদ পেতে বসে আছে হায়নার দল, মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে অনেক সময় ধর্মীয় লেবাস দেখিয়ে মানুষকে প্রলুপ্ত করে বিভিন্ন জাল ভিসা বিভিন্ন জাল কাগজ তৈরি করে নয় ছয় বুঝিয়ে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি টাকা। এসব আদম অফিসে একদিকে চলে দেনা পাওনার বিচার তার ফাঁকে ফাঁকে চলে নতুন মক্কেল এনে তাদের কাছ থেকে নতুন করে কিভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়া যায় তার পরিকল্পনা। বছরের মাথায় মাথায় অফিস পরিবর্তন, আদম ব্যবসায়ীকে সেলটার দিতে থাকে এক ঝাঁক দালাল, দেখায় ম্যানপাওয়ার দেখাবে বিভিন্ন কাগজ এমনকি তারা টিকিট কেটে বিমানে উঠাবে কিন্তু যে দেশে যাবে সেই দেশ থেকে আবার তাদেরকে ফেরত পাঠাবে এভাবেই চলে এই সিন্ডিকেটের অভিনব প্রতারণা। প্রতিনিয়ত প্রতি মুহূর্ত মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবার। কেউ গরু বিক্রি করে জমি বিক্রি করে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে মামা চাচাদের কাছ থেকে টাকা হাওলাত নিয়ে সুদে টাকা নিয়ে সমিতি থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে গমন করার উদ্দেশ্যে রাজধানী ঢাকায় এসে প্রতিনিয়ত প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হচ্ছে। তাদের দীর্ঘশ্বাস তাদের ক্রন্দন আকাশে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তারা লোক পাঠাবে বলে বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদেরকে অফিসে বসিয়ে মোবাইলে, ল্যাপটপে বুস্ট করার মধ্য দিয়ে বিদেশে গমনইচ্ছু মানুষদেরকে আকৃষ্ট করে এরপর তাদের সাথে মোবাইলে কথাবার্তা বলে অফিসে এনে ভালো মানুষের অভিনয় করে বিশ্বাসযোগ্য কথাবার্তা বলে তার কাছ থেকে পাসপোর্ট নিবে এবং টাকা নিবে এরপর ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ টাকা নেয়া হলে তার মোবাইল আর ধরবে না। অনেক ক্ষেত্রে ঝোঁপ বুঝে কোপ মারে তারা কিছু ভুক্তভোগীকে এমনও বলে আগামী অমুক দিন আপনাদের ফ্লাইট অর্ধেক টাকা দিয়েছেন ফ্লাইট এর আগে বাকি টাকা না দিলে ফ্লাইটে উঠতে পারবেন না ফ্লাইটের দিন তাদেরকে এয়ারপোর্টের আশেপাশে কোন একটি আবাসিক হোটেলে রেখে তাদের কাছ থেকে সুকৌশলে জাল কাগজপত্র ধরিয়ে দিয়ে টাকা পয়সা নিয়ে কেটে পড়ে। এরপর ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা এয়ারপোর্টে যেয়ে অপেক্ষা করে এক সময় তাদেরকে মেসেজ দেয় আপনাদের ফ্লাইট ক্যানসেল এখন হবে না আগামী মাসে হবে শুরু হয় ঘুরানোর পালা। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারে আমরা প্রতারনার শিকার হয়েছি কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। কিছু কিছু ভুক্তভোগী যাদের একটু মামু খালুর জোর আছে থানা পুলিশ চেনে সাংবাদিক চেনে তারা বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে টাকা পয়সা আদায় করার চেষ্টা করলে প্রতারক চক্র মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে এই কারণে হয় নাই সেই কারণে হয় নাই সময় মতো টাকা দিতে পারেন নাই ঠিক আছে আমি আস্তে আস্তে টাকা দিয়ে দিচ্ছি এরপর শুরু হয় দশ হাজার বিশ হাজার দুই হাজার করে টাকা দেওয়ার পালা। একটি জরিপে দেখা গেছে এবং বিভিন্ন আদম অফিস ঘুরে সাক্ষাৎকার নিলে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায় যে সকল আদম ব্যবসায়ীরা প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় মুলত তাদের ব্যক্তিগত জীবনে কোন শান্তি নেই তাদের টাকা পয়সারও কোন হিসাব নেই তাদের ব্যক্তিগত স্বভাব চরিত্র ভালো না তারা সবসময় মানুষের দেনা পাওনার হিসাব নিয়ে ২৪ ঘন্টা ব্যস্ত থাকে তাদের ছেলেমেয়েদেরও কোন তাল ঠিক নেই । একাধিক বিয়ে বিভিন্ন দুষ্ট প্রকৃতির মেয়েদেরকে বিভিন্ন জায়গায় রেখে মানুষকে ব্ল্যাকমেইলিং করে ভয় দেখানো সহ তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত। অসৎ আদম ব্যবসায়ীদের প্রকৃত জীবন এটাই মানুষের অভিশাপ এবং আর্তনাদ তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে কুড়ে কুড়ে খায় এবং আখিরাতের জীবনেও তাদেরকে জবাবদিহিতা করতে হবে এক কথায় তারা দুনিয়া এবং আখেরাতে কোথাও শান্তিতে থাকবে না তারা অভিশপ্ত গোষ্ঠী যারা মানুষ এবং পরিবারকে নিঃস্ব করে একটি স্বপ্নকে ভেঙে দেয় মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নেয় এসব অসভ্য আদম ব্যবসায়ীদের মনে কোন দয়ামায়া নেই এসব আদম ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে চরম শাস্তি এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে বিভিন্ন আদম ব্যবসায়ীরা তাদের অফিসের সংশ্লিষ্ট থানা ও বিভিন্ন প্রশাসনের সাথে আঁতাত করে এমনকি যখন যে সরকার আসে সেই দলীয় সরকারের নেতাকর্মীদের সাথেও তাদের রয়েছে সখ্যতা। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ভুক্তভোগীরা কোন বিচার পায় না অন্যদিকে অসৎ-আদম ব্যবসায়ীরা তাদেরকে স্ট্রিম রোলার এর মত পিষে পিষে তিলে তিলে মেরে ফেলার মত অবস্থা করে ছাড়ে ।
দেশের বেকার যুবকদের টার্গেট করে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশ পাঠানোর নামে বিপদে ফেলে দেয়। সাধারণত এই প্রতারকরা নামী-দামি এলাকায় অত্যাধুনিক অফিস ভাড়া নেয় এবং উচ্চবেতন, সহজ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রলুব্ধ করে।
এই চক্রের অন্যতম একটি ধাপ হলো স্টুডেন্ট ভিসা’ বা স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং’ নামের আরেকটি প্রতারণার ফাঁদ। কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সি শিক্ষার্থীদের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হয়।
বিদেশে গমনেচ্ছুদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসার নামে প্রতারণার মাধ্যমে। দালালরা লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে, “অল্প খরচে ইউরোপ, আমেরিকা বা জাপানে যাওয়ার সুযোগ বলে প্রলুব্ধ করে। কিন্তু এই ভিসাগুলোতে কাজ করার সুযোগ নেই, ফলে কর্মসংস্থানের পরিবর্তে প্রতারণার শিকার হয় তরুণরা।
গত কয়েক বছরে মন্ত্রণালয়ে দালালচক্রের বিরুদ্ধে সহস্রাধিক অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। সালে মালয়েশিয়া, লিবিয়া ও ইউরোপে ফাঁদে পড়া ৫ শতাধিক বাংলাদেশির ফেরত আসার খবর মিলেছে। প্রতিনিয়ত মানুষ ফেরত আসছে বিদেশ থেকে বিভিন্ন প্রতারণার শিকার হয় কেউবা ট্রলারে প্রতারিত হচ্ছে কেউবা সমুদ্রে ডুবে গিয়ে মারা যাচ্ছে এভাবেই বিদেশে গমন ইচ্ছুক মানুষরা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে ।প্রতারকদের ফাঁদে পা দিলে পরিণতি ভয়াবহ হয়। অনেকেই বিদেশে পৌঁছানোর পর কাজ না পেয়ে বিপদে পড়ে যায়। কিছু ভুক্তভোগী জেল-জরিমানার মুখোমুখি হয়। কেউ কেউ অবৈধ পথে প্রবেশের কারণে মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করে থাকে। অনেকে সব টাকা হারিয়ে পরিবার নিঃস্ব হয়ে যায়।
বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি এই পন্থায় লিবিয়া, মালয়েশিয়া, রাশিয়া, লেবানন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসহ বিভিন্ন দেশে মানুষ পাঠাচ্ছে। এজেন্সিগুলো এখন ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় ইউরোপে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন করে প্রতারণা করছে ।
আদম ব্যবসার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা এক প্রকার বন্ধ ছিল। সম্প্রতি আবার চালু হয়েছে ভিসা কার্যক্রম। আর এ সুযোগে আগের মতই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে অবৈধ আদম ব্যবসায়ীরা। তারা স্টুডেন্ট ভিসার গ্যারান্টি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। এমনকী যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার প্রলোভন দিতে শুরু করেছে। বিদেশ যাওয়ার এই সহজ প্রলোভনে সর্বস্বান্ত হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া সহজ ছিল। সঠিক কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও হাজার হাজার বাংলাদেশি তরুণ স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন। এজন্য তারা বিভিন্ন এজেন্সিকে মোটা অংকের অর্থও দিয়েছেন। কিন্তু এদেশে আসার পর স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নিতে গিয়ে স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস হারিয়ে অবৈধ অভিবাসী হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউন শুরু হলে চরম বিপদ নেমে আসে তাদের ওপর, যার রেশ এখনো চলছে। ওয়ার্ক পারমিট না থাকলেও অনেকে কাজ করতেন। এখন সেই কাজ হারিয়ে আর্থিক কষ্টে আছেন। করছেন মানবেতর জীবনযাপন।
যারা স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস ধরে রেখেছেন তারাও অবৈধভাবে কাজ করতেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কিন্তু অভিবাসী বিরোধী অভিযান ও কঠোর নীতির কারণে তারা চরম দুঃশ্চিন্তা ও বিপাকে পড়েছেন। অনেক শিক্ষার্থী কর্মস্থলে যেতে আতঙ্কে রয়েছেন। বিশেষ করে এক স্টেটের ভার্সিটিতে পড়ে অন্য স্টেটে থেকে কাজ করছেন এবং নির্দিষ্ট ঘণ্টার অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন, সে সকল শিক্ষার্থীরাই বেশী বিপাকে রয়েছেন। এতে এখানে থাকা শিক্ষার্থীরা অভিবাসনবিরোধী ধরপাকড়ের আশঙ্কার পাশাপাশি টিউশন ফি’র খরচ মেটাতে বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছেন।
নাম পরিচয় না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের অনেকেই স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসে শর্তকে পাশ কাটিয়ে এখানকার ব্যয় নির্বাহের জন্য কাজ করছেন। সম্প্রতি অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নে আইস এর অভিযান শুরুর পর থেকে তারা এখন কাজ করতে পারছেন না। জরিমানার ভয়ে চাকরি দিচ্ছে না বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। তাছাড়া যারা অন্য স্টেটের ভার্সিটির শিক্ষার্থী হয়ে নিউইয়র্কে কাজ করছেন এবং বসবাস করছেন তারা এখন পুরোপুরি কাজ বন্ধ রেখেছেন ভয়ে। কারণ তারা অনলাইনে ক্লাস করার পাশাপাশি নিউইয়র্কে বিভিন্ন চেইন ফুড স্টোর, গ্রোসারিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। এতে ভার্সিটির টিউশন ফি ও আবাসনসহ যাবতীয় খরচের সংস্থান হতো এ আয় থেকে। এখন কাজে যেতে না পারায় আর্থিক সংকটে চরম হতাশায় রয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে স্টুডেন্ট শর্ত ভঙ্গের দায়ে তিন শিক্ষার্থীকে ডিপোর্টেশনের খবরে তাদের আতঙ্ক আরো প্রকট হয়েছে। এতে তাদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসতে খরচ হওয়ার কথা ১২-১৪ লাখ টাকা। দেশটিতে আসার পর নিয়মিত সেমিস্টার ফি পরিশোধ করতে হয়। অথচ স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসতে অবৈধ এজেন্সির খপ্পড়ে পড়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী তিন-চার গুণ টাকা খরচ করেছেন। তাদের চাকরির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। প্রলোভন দেওয়া হয়েছে গ্রিনকার্ডেরও। অথচ তারাই এখন মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।
নিউইয়র্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত একজন শিক্ষার্থী বলেন, ৪০ লাখ টাকা খরচ করে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। গত কয়েক মাস ধরে আইসের অভিযান ও গ্রেপ্তার দেখে ভয়ে আছি। শুধু অবৈধ অভিবাসী না, স্টুডেন্ট ভিসার শর্ত ভঙ্গের দায়ে শিক্ষার্থীরাও গ্রেপ্তার হতে পারেন এমনটা শুনছি। এরকম পরিস্থিতিতে এখানে থেকে পড়াশোনা চালানোও অসম্ভব।
বাংলাদেশ থেকে আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যাঙের ছাতার মত অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ভিসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর তারাও প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছিল। সম্প্রতি চালুর ঘোষণায় আবার সরব হয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আগে এসব প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আর এই অর্থ জোগাড় করতে পরিবারগুলোকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিশেষ করে বহু পরিবার সন্তানের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সম্পত্তি বিক্রি করেছেন, এমন নজির অহরহ। অনেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনার হরিণ’ ধরতে বড় চাকরি ছেড়ে সঞ্চিত অর্থ খরচ করেছেন। এখন তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা কার্যক্রম ফের চালুর ঘোষণায় আবারো ফাঁদ পেতেছে একটি চক্র। তবে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অবৈধ আদম ব্যবসার কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন এজন্সির ওপর নজর রাখছে। ঢাকার কয়েকটি প্রসেসিং সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। যুক্তরাষ্ট্র সরকারও ভিসা নীতি কঠোর করেছে। এখন থেকে ভিসার জন্য আবেদনকারীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য ওপেন রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পলিটিকোর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য আবেদনকারী সকল বিদেশি শিক্ষার্থীর সোশাল মিডিয়া যাচাইয়ের কথা বিবেচনা করছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ঘেঁটে দেখে কোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক মনোভাব আছে কি না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান কিংবা দেশটির প্রতিষ্ঠার মূলনীতির প্রতি।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনার আওতায় পড়বে এফ ভিসা। যেটি মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এম ভিসা ও জি ভিসাও (কারিগরি শিক্ষার্থী ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের জন্য) এর প্রভাবের মধ্যে পড়বে। যেসব আবেদনকারী নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রোফাইল প্রাইভেট রাখবেন, তাদের গোপন কিছু লুকানোর চেষ্টা করছেন বলে সন্দেহ করা হতে পারে।
বাংলাদেশের শ্রমবাজার দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষ বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে এক শ্রেণির ট্রাভেল এজেন্সি নামধারী প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষকে বিদেশগমনের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে দিচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ও রিক্রুটিং লাইসেন্স ছাড়াই এই চক্র বিদেশে পাঠানোর নামে যুব সমাজকে সর্বস্বান্ত করছে।
জানা গেছে, দেশজুড়ে অসংখ্য অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সি ও ‘স্টুডেন্ট কাউন্সিলিং’ প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে তরুণদের বিদেশে পাঠানোর নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো রিক্রুটিং লাইসেন্স নেই। অথচ মিষ্টি কথার জালে জড়িয়ে সাধারণ পরিবারগুলোর শেষ সম্বল কেড়ে নিচ্ছে তারা। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও যেখানে স্টুডেন্টরা পড়তে যাবে সর্বক্ষেত্রেই প্রতারক প্রতারণা করছে আর করছে হয়রানি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইন এবং প্রতারকদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে এগুলো বন্ধ হবে না।

Facebook Comments Box

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 প্রানের বাংলাদেশ