
দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট আর অনিশ্চয়তার মাঝেও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলা নকলা উপজেলার জমজ দুই বোন ফারজানা আক্তার ও ফাহিমা আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পরিষদ, শেরপুর।
তাদের শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) দুপুর ১২টায় জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে দুই বোনের প্রত্যেকের হাতে ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন তিনি।
জানা যায়, নকলা উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন কায়িক শ্রমের মাধ্যমে চার সন্তানসহ পুরো পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। কিন্তু ২০২১ সালে বরিশালে নির্মাণকাজ করতে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনায় আহত হন তিনি।
এরপর থেকে প্রায় কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে জমজ দুই মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন।
এ অবস্থায় পরিবারের হাল ধরেন তাদের মা। সীমাহীন কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্যেও মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেন তিনি।
কঠোর অধ্যবসায় আর মেধার স্বাক্ষর রেখে ফাহিমা আক্তার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। অন্যদিকে ফারজানা আক্তার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চশিক্ষার পথে আরেক ধাপ এগিয়ে যান।
তবে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন, পিতার চিকিৎসা ব্যয় এবং দুই মেয়ের লেখাপড়ার খরচ সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাদের মা। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নকলা এবং জেলা পরিষদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের নজরে এলে তারা সহযোগিতার উদ্যোগ নেন।
তাদের অনুসন্ধান ও সুপারিশের ভিত্তিতে সহায়তার হাত বাড়ান জেলা পরিষদের প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ, চেক প্রদানকালে এবিএম মামুনুর রশিদ বলেন,ফারজানা ও ফাহিমা আমাদের সন্তান, শেরপুরের গর্ব। তারা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজ ও দেশের নারীদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন,আমরা চাই ফারজানা ও ফাহিমা সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাক।
তাদের জীবনসংগ্রামের গল্প দেশের অন্যান্য মেয়েদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। তাদের পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত।